আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
ওয়াশিংটন, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ (যমুনা সংবাদ): গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে— “গ্রিনল্যান্ড অর্জনে আপনি কতদূর যেতে প্রস্তুত?”— ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ উত্তর দেন, “You’ll find out” (আপনি জানতে পারবেন)। তার এই মন্তব্য স্পষ্ট কোনো কূটনৈতিক সীমা নির্ধারণ না করায় বিশ্বজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই দ্বীপটির ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। তবে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে— সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানাননি।
এদিকে ডেনমার্ক সরকার ও গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে স্থানীয় জনগণের মতামতই চূড়ান্ত। ডেনমার্কের কর্মকর্তারা বিষয়টিকে সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং ন্যাটো জোটের ভেতরে মতবিরোধ বাড়াতে পারে। ইউরোপীয় কয়েকটি রাজধানীতে কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যু কেবল একটি দ্বীপ অধিগ্রহণের প্রশ্ন নয়; এটি আর্কটিক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়। ট্রাম্পের অস্পষ্ট কিন্তু দৃঢ় বক্তব্য ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান কোন দিকে যাবে— তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও শঙ্কা বাড়িয়েছে।








