ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
ঢাকা, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ (যমুনা সংবাদ) : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে প্রশাসনিক সংস্কারের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হলো। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভা। এটি বর্তমান সরকারের মেয়াদে নিকার-এর প্রথম বৈঠক।
সভায় ছয়জন উপদেষ্টা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিবসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ১৪ জন সচিব অংশ নেন। বৈঠকে প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে মোট ১১টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব আলাদা করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় গতি আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতেও বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এসেছে নিকার সভা থেকে। বিদ্যমান স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ একীভূত করে পুনর্গঠন করা হবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এছাড়া প্রশাসনিক নামকরণে পরিবর্তন এনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নতুন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ নামে পুনঃনামকরণ করার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। তবে ইংরেজি নাম অপরিবর্তিত থাকবে।
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে, যা স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সেবা সম্প্রসারণে গাজীপুরে পুর্বাচল উত্তর, নারায়ণগঞ্জে পুর্বাচল দক্ষিণ এবং কক্সবাজারে মাতারবাড়ী নামে তিনটি নতুন থানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলাকে বিভক্ত করে আরও একটি নতুন থানা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলার ভুল্লী থানার নামের বানান সংশোধন করে ‘ভূল্লী’ করার প্রশাসনিক প্রস্তাবও চূড়ান্ত হয়েছে।
নিকার সভার এসব সিদ্ধান্তকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশাসনিক সংস্কার কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।








