Home দেশ সংবাদ পাবনায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর হাত-পা বাঁধা স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার

পাবনায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর হাত-পা বাঁধা স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার

5
0
blank

পাবনা, জেলা প্রতিনিধি:

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম মোছা. সুরাইয়া খাতুন (১৩)। সে ফরিদপুর উপজেলার বি.এল. বাড়ি ইউনিয়নের জন্তিহার গ্রামের মো. স্বপন খানের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) বিকেলে নিজ বাড়ির সামনে থেকে সুরাইয়া নিখোঁজ হয়। স্বজনরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) সুরাইয়ার দাদা মো. আব্দুল জব্বার খান ফরিদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডি করার দুই দিন পর, ১৮ জানুয়ারি (রবিবার) সকালে জন্তিহার ও পার্শ্ববর্তী বিলনলুয়া গ্রামের সংলগ্ন একটি বিল থেকে সুরাইয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কৃষকেরা জমিতে কাজ করতে গিয়ে পানিতে অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় হাত-পা ও মুখ বাঁধা একটি লাশ দেখতে পেয়ে গ্রামবাসীকে খবর দেন। পরে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে এসে লাশটি সনাক্ত করেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত সুরাইয়া মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিল।

এই ঘটনায় পরিবারে শোকের মাতম চলছে। একই সঙ্গে গোটা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আকনজি বলেন, “লাশটি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

এর আগে নিখোঁজের ঘটনা প্রসঙ্গে ফরিদপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর নূর মোহাম্মদ সরকার জানিয়েছিলেন, “জিডিভুক্ত করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।”

নাবালিকা শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের আবহ বিরাজ করছে।