Home আন্তর্জাতিক সংবাদ কানাডা–কাতার বাণিজ্য আলোচনা ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতি

কানাডা–কাতার বাণিজ্য আলোচনা ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতি

4
0
blank

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ( যমুনা সংবাদ): আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্রিকস নিউজ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক কূটনীতি ও ভূরাজনীতিতে একযোগে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইস্যু সামনে এসেছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে কাতারে পৌঁছেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি, অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি সরকারি সফরে কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছেন। এ সফরে কাতারের শীর্ষ নেতৃত্ব ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতভিত্তিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও সবুজ জ্বালানিতে পারস্পরিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কানাডা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত বাণিজ্য নির্ভরতা কমিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বাজারে প্রবেশের কৌশল গ্রহণ করছে। সেই প্রেক্ষাপটে কাতার সফরকে কানাডার বহুমুখী পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাতার কর্তৃপক্ষও কারনির আগমনকে স্বাগত জানিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

অন্যদিকে, উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কাল্লাস স্পষ্টভাবে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীরই এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধুমাত্র সেখানকার জনগণের। তাঁর এই মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তার বা দখলসংক্রান্ত আলোচনা প্রত্যাখ্যান হিসেবেই দেখা হচ্ছে। একই সুরে ফ্রান্স হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড দখলের মতো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে মৌলিকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুটি শুধু একটি ভূখণ্ডের প্রশ্ন নয়; বরং এটি আর্কটিক অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, সামরিক কৌশল এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ইউরোপীয় দেশগুলো স্পষ্টভাবে সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে, কানাডা–কাতার বাণিজ্য আলোচনা ও গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ইউরোপ–যুক্তরাষ্ট্র টানাপোড়েন বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির গভীর সংযোগকে আবারও সামনে এনেছে।