পাবনা প্রতিনিধি:
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের গৌরব আরও একবার উজ্জ্বল করলেন পাবনার কৃতী সন্তান খাদিজা হোসেন অড়লা। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ইংল্যান্ড (ইউডব্লিউই), ব্রিস্টলের স্টুডেন্টস ইউনিয়নে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টানা দুইবার ভাইস প্রেসিডেন্ট (শিক্ষা) নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর সরাসরি ভোটে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেন খাদিজা। ২০২৪ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আস্থা ও ব্যাপক সমর্থনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পুনরায় ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি।
খাদিজা হোসেন অড়লা পাবনার এক সম্ভ্রান্ত ও কৃতিত্বপূর্ণ পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা প্রয়াত মোবারক হোসেন রত্ন ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ক্রীড়াবিদ এবং মা সোহানী হোসেন একজন সফল নারী শিল্প উদ্যোক্তা।
শিক্ষাজীবনের শুরুতে তিনি পাবনার ক্যাডেট কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকার ওয়াইডাব্লিউএ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধীনে লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।
উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান খাদিজা। সেখানে ইউডব্লিউই ব্রিস্টল থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন ছাত্র রাজনীতিতে।
নিজের নেতৃত্বের পথচলা সম্পর্কে খাদিজা বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি নেতৃত্ব, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাজ্যে এসে ছাত্র ইউনিয়নের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার ফলেই তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন বলে জানান।
ভাইস প্রেসিডেন্ট (শিক্ষা) হিসেবে খাদিজা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অধিকার রক্ষা, শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী বোর্ডে শিক্ষার্থীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস (এনইউএস)-এর সাউথ ওয়েস্ট অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এই ভূমিকায় তিনি ব্রিটিশ সংসদে ভাড়াটিয়াদের অধিকার সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল প্রণয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন, যা পরবর্তীতে সংসদের উভয় কক্ষে পাস হয়—যা তাঁর নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
নিজের অর্জনকে ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের সম্মিলিত অর্জন হিসেবে দেখেন খাদিজা হোসেন অড়লা। তিনি বলেন, “সঠিক সুযোগ, কাঠামো ও পরিশ্রম থাকলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিতে পারে।”
খাদিজার এই সাফল্যে দেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে গর্ব, আনন্দ ও নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা।








