আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ (যমুনা সংবাদ): বিশ্ব রাজনীতিতে একযোগে বড় ধরনের উত্তেজনা ও অস্থিরতার খবর দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্রিকস নিউজ ও অন্যান্য গণমাধ্যম। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্কের টানাপোড়েন, ইউরোপের কূটনৈতিক অবস্থান এবং এশিয়ায় রাজনৈতিক বিচার—সব মিলিয়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে ব্রিকস নিউজ জানায়, ইরানি কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করছে, স্যাটেলাইট টার্মিনাল জব্দ করছে এবং সিগন্যাল জ্যামিং চালাচ্ছে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ স্টারলিংক ডিভাইস ও উন্নত ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দের কথাও নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তার দাবি, চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে একাধিক কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সহায়তা আসছে” এবং বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে ও নিজেদের প্রতিষ্ঠান দখলে নিতে আহ্বান জানান। এ মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইউরোপেও ইরান প্রসঙ্গে কঠোর সুর শোনা যাচ্ছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস মন্তব্য করেছেন, “আমরা ইরানি শাসনব্যবস্থার শেষ দিন ও সপ্তাহ প্রত্যক্ষ করছি।” একইসঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কাল্লাস বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কেবল তখনই আলোচনায় গুরুত্ব দেবেন, “যদি আমরা তাকে বাধ্য করতে পারি।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে সাবেক মার্কিন নৌবাহিনীর এক সদস্যকে ২০০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাণিজ্য যুদ্ধ প্রসঙ্গে চীন সতর্ক করে বলেছে, শুল্কযুদ্ধে কোনো পক্ষই বিজয়ী হয় না।
এশিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ায় রাজনৈতিক নাটক চরমে। দেশটির প্রসিকিউটররা সাবেক ও অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে আর্কটিক অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক বার্তা দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র নয়, ডেনমার্কের সঙ্গেই থাকতে চায় এবং “যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন হবে না।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে—২০২৬ সালের শুরুতেই বিশ্ব রাজনীতি প্রবল অনিশ্চয়তা ও শক্তির পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।








