Home দেশ সংবাদ নীলফামারীতে সরকারি খাস জমি দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর

নীলফামারীতে সরকারি খাস জমি দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর

15
0
blank

নীলফামারী প্রতিনিধি:

নীলফামারীতে সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল, বিক্রি ও অনুমোদনবিহীন স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সাধারণ মানুষ। সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় সরকারি খাস জমি দখলের প্রতিবাদে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে জেলার সর্বস্তরের জনগণ ও বিভিন্ন সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় নীলফামারী চৌরঙ্গী মোড়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শতাধিক সাধারণ মানুষ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচি শেষে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলামের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গোড়গ্রাম ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ বাজারের কাঞ্চনপাড়া মোড়ের পূর্ব পাশে অবস্থিত সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। দখলকৃত জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ ও অবৈধ বিক্রির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি প্রকাশ্যেই আত্মসাৎ করা হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

বক্তারা জানান, ব্রোথনাথ রায়ের পুত্র জয়ন্ত রায় গত বছরের ২১ ডিসেম্বর সরকারি খাস জমি দখল করে সেখানে নতুন করে পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এর আগেও প্রায় চার বছর আগে তিনি একই এলাকায় আনুমানিক চার শতক সরকারি খাস জমি দখল করে তিনটি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করেন, যা আজও বহাল রয়েছে। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন—নিজস্ব প্রায় ৩০ বিঘা জমি থাকা সত্ত্বেও তিনি পরিকল্পিতভাবে সরকারি জমি দখলের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি আত্মসাতের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়াও মানববন্ধনে অভিযোগ ওঠে, একই এলাকার মো. আফজাল হোসেন প্রায় ২০০ মিটার সরকারি খাস জমি দখল করে সেখানে অবৈধভাবে একটি দোকান মার্কেট নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে ওই মার্কেটে অন্তত ৮টি দোকানঘর রয়েছে। শুধু তাই নয়, দখলকৃত সরকারি জমির একটি অংশ তিনি অবৈধভাবে পাঁচজনের কাছে বিক্রি করেছেন—যা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বেআইনিভাবে হস্তান্তরের গুরুতর অপরাধ বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রশাসন যদি অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে সংবাদ সম্মেলনসহ আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।