গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
সাঘাটা থানার ভেতরে নিহত সিজু মিয়া হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে গাইবান্ধার সাধারণ মানুষ। শনিবার সকালে গাইবান্ধা জেলা শহরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে কয়েক শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, মানবাধিকার কর্মী ও নিহতের স্বজনেরা অংশ নিয়ে প্রতিবাদ জানান। বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি মোবাইল ফোন হারিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে সাঘাটা থানায় নিয়ে যাওয়া হয় সিজু মিয়াকে। সেখানে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
বক্তারা বলেন, “এটি কোনো আত্মহত্যা নয়। এটি একটি ঠান্ডা মাথায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড। অথচ পুলিশ বলছে, তিনি থানায় এসে হঠাৎ এক পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করেন, পরে পালিয়ে পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন এবং একদিন পর ফায়ার সার্ভিস তাঁর লাশ উদ্ধার করে। আমরা এই অসংলগ্ন ও রহস্যঘেরা বক্তব্য মানি না।”
মানববন্ধনে বক্তারা সিজু মিয়া হত্যার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তাঁরা। নিহত পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান বক্তারা।
এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে জেলা পুলিশের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
সিজু মিয়ার পরিবার বলছে, তাঁকে থানায় ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে থানার ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ এখনো গোপন রাখা হয়েছে। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।
গাইবান্ধা জেলার সচেতন নাগরিক সমাজ বলছে, এই ঘটনায় সত্য উদঘাটন না হলে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।








