বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলো চরম জনবল সংকট ও দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ওষুধের সরবরাহ বন্ধ থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে মাসে প্রায় ১৫ হাজার রোগী বিশেষ করে গর্ভবতী নারীরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলার রহমতপুর, কেদারপুর, চাঁদপাশা ও জাহাঙ্গীরনগর—এই চারটি ইউনিয়নে একটি করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু এসব কেন্দ্রগুলোতে নেই পর্যাপ্ত জনবল, নেই প্রয়োজনীয় ওষুধ। প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যপরামর্শ, ও পরিবার পরিকল্পনা সেবায় ভরসা হারাচ্ছেন স্থানীয়রা।
“ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই—তাই বাজারে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়,”
বলছিলেন জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের রিনা বেগম। তিনি জানান, আগে এখান থেকে বিনামূল্যে ওষুধ ও পরামর্শ মিলত। এখন তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেরই স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর ও কেদারপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে উপসহকারী পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক (পুরুষ) পদদ্বয় দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোও স্থবির হয়ে পড়েছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান,
“দীর্ঘদিন ধরে জনবল ও ওষুধ সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে। বাজেট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দ্রুত সমাধান সম্ভব হচ্ছে না। তবে সীমিত পরিসরে জরুরি সেবা চালু রাখতে আমরা চেষ্টা করছি।”
বরিশাল জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মেহেবুব মোর্শেদ লিটু বলেন,
“উপসহকারী পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক পদের ঘাটতি শুধু বাবুগঞ্জেই নয়, বরং সারাদেশেই রয়েছে। তবে রাজস্ব খাতের অর্থ দিয়ে দ্রুত ওষুধ ক্রয় ও সরবরাহ নিশ্চিতের প্রক্রিয়া চলছে।”
সরকারি এসব সেবা কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা চলতে থাকলে, পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃসেবা ও শিশুস্বাস্থ্য কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়বে—যার ভয়াবহ প্রভাব পড়বে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর। বিশেষ করে দরিদ্র গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে অবিলম্বে বাজেট বরাদ্দ ও কার্যকর জনবল নিয়োগের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ের এই সংকট নিরসন এখন সময়ের দাবি।








