Home দেশ সংবাদ মাত্র ২ কিলোমিটার রাস্তা—ভোগান্তিতে ১৫ হাজার মানুষ

মাত্র ২ কিলোমিটার রাস্তা—ভোগান্তিতে ১৫ হাজার মানুষ

144
0
blank

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ও বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সোনামসজিদে মাত্র দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এবং ৬০ মিটার পাকা রাস্তা সংস্কারের অভাবে চরম জনদুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, কৃষক ও দেশের অন্যতম স্থলবন্দরটির পণ্যবাহী ট্রাকচালকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোনামসজিদ স্থলবন্দরের বিজিবি স্ক্যানার এলাকায় মাত্র ৬০ মিটার রাস্তা এতটাই ভেঙে গেছে যে, প্রতিদিন শত শত ট্রাক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। রাস্তার এক পাশে বড় গর্ত ও পানি জমে থাকায় ভারী যানবাহন উল্টে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে প্রতিনিয়ত।

অন্যদিকে, ঐতিহ্যবাহী ছোট সোনামসজিদের পাশ ঘেঁষে শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ডিগ্রি কলেজ হয়ে সালামপুর গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা বছরের পর বছর চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। এই রাস্তাটি ১৫ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা, যেখানে একটি কলেজ, একটি মাদ্রাসা, শিশু পার্ক, কৃষি জমি ও একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষক ও ব্যবসায়ীরা জানালেন, প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ এই রাস্তায় ভয়ংকর দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে চলাফেরা করছেন। পায়ে হাঁটাও দুঃসাধ্য। সালামপুর গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম মাস্টার বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে প্রতিদিন চিন্তায় থাকতে হয়, যদি কেউ পড়ে গিয়ে আহত হয়। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দেখার কেউ নেই।”

স্থানীয় কৃষক মুখলেসুর রহমান বলেন, “আমাদের খেত জমি এই পথ ধরেই। সকাল-বিকাল আমরা যাতায়াত করি। বর্ষায় যেন মরণফাঁদ।” ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম, দোকানি আতাউর রহমান এবং ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলী ও সাদিকুল ইসলাম—সবাই একসুরে বললেন, এই রাস্তাটি জনজীবনের মূল ধমনী, অথচ বছরের পর বছর পড়ে আছে অবহেলায়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় এলজিইডি অফিস সূত্র জানায়, সোনামসজিদ-সালামপুর রাস্তার ৯৩৪ মিটার অংশ হেয়ারিং করার জন্য ১৪ লাখ ৪২ হাজার টাকার একটি প্রকল্পের দরপত্র সম্পন্ন হয়েছে। কাজ শুরুর কথা ছিল ১১ জুন, শেষ হবার কথা ১২ ডিসেম্বর। কিন্তু এখনো কাজ শুরু হয়নি। শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আজাহার আলী যমুনাকে জানান, “বিজিবি স্ক্যানারের সড়ক সংস্কার খুব শিগগিরই শুরু হবে। সালামপুর গ্রামের রাস্তার সমস্যার কথা আগে জানতাম না। এখন জেনেছি, জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রাস্তাগুলো শুধু একটি গ্রামের জীবনযাত্রা নয়, বরং চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতি, শিক্ষা এবং সীমান্ত বাণিজ্যের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দ্রুত সংস্কার না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

জনগণের দাবি একটাই—কথা নয়, কাজ চাই। এখনই।