Home রাজনীতি নীলফামারীতে জুলাই শহীদ স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নীলফামারীতে জুলাই শহীদ স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

137
0
blank

নীলফামারী প্রতিনিধি:

জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে শহীদ স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৬ জুলাই ২০২৫) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জেলা কার্যালয়ে এ আয়োজন হয়।

সভায় বক্তারা পৈশাচিক দমন-পীড়ন, চাঁদাবাজি ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং গোপালগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে কণ্ঠ মিলান।

জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল মজিদ বলেন,

“যারা গণতন্ত্রের জন্য শহীদ হয়েছেন, তারা জাতির বীর। কিন্তু আজ আমরা এমন একটি বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছি যেখানে সেই শহীদদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী—ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। তারা এখনো রাজপথে সশস্ত্র তাণ্ডব চালাচ্ছে। গোপালগঞ্জে আজ আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের রক্ত ঝরানো হয়েছে। এই ঘটনা আওয়ামী লীগ যে এখনও ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করে আছে, তার প্রমাণ।”

তিনি আরও বলেন,

“ছাত্রলীগ নামধারী অপরাধীরা এখন ছদ্মবেশে ক্যাম্পাসে টেন্ডারবাজি করে, গাড়ি থেকে চাঁদা তোলে, আর প্রতিবাদ করলে হামলা চালায়। যুবলীগের নামে এখন চলছে অস্ত্র, মাদক আর খুনের ব্যবসা। এরা জনগণের শত্রু, গণতন্ত্রের গলার কাঁটা।”

আব্দুল মজিদ বলেন,

“আমরা আশা করেছিলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে গণতন্ত্রের পথ সুগম হবে। তবে এখন যেভাবে পুলিশ প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে, মাঠে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব চলছেই—তা উদ্বেগজনক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. ইউনুসকে আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—নিরপেক্ষতা শুধু কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হয়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অবহেলা করলে তা ইতিহাসের unforgiving আদালতে দায় হয়ে দাঁড়াবে।”

সিনিয়র সদস্য অ্যাডভোকেট আসিফ ইকবাল মাহমুদ বলেন,

“২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার রেখে যাওয়া সন্ত্রাসী বাহিনী—এখনো সক্রিয়। তারা আবারো রক্ত ঝরাতে শুরু করেছে। আমরা ভুলিনি—তাদের হাতেই প্রাণ গেছে আমার ভাইয়ের, আমার বোনের। বাংলার মাটিতে আর কোনও ফ্যাসিস্টের স্থান হবে না।”

তিনি আরও বলেন,

“গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আমরা জীবন দিতেও প্রস্তুত। শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে, রাজপথেই করতে হবে। তাই আজকের গোপালগঞ্জের ঘটনার পর থেকে সকল নেতাকর্মীদের আহ্বান জানাই—সতর্ক থাকুন, সংগঠিত থাকুন, এবং প্রস্তুত থাকুন।”

আখতারুজ্জামান খান বলেন,

“গোপন আঁতাতে যারা গণআন্দোলনের সুর ধ্বংস করতে চায়, ইতিহাসে তাদের পরিণতি কখনোই ভালো হয়নি। শহীদদের অপমান আর বেশি দিন সহ্য করা হবে না। যারা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে, তারা জনগণের শত্রু—এবং জনগণের রায়ে তাদের পতন হবেই।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়ক মহাইমিনুর রহমান সানা, সদস্য নূর মোহাম্মদ, আল-আমিন ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মী, জনসাধারণ ও সংবাদকর্মীরা।

সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা বলেন,

“জুলাই শহীদ দিবস শুধু স্মরণ নয়, এটি এক শপথের দিন—যে শপথে আমরা ঘোষণা করছি, আর কখনো বাংলার রাজপথে ফ্যাসিবাদের ছায়া পড়তে দেব না। যদি দরকার হয়, আবারও জীবন দেবো, কিন্তু জনগণের ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ফিরিয়ে আনবোই।”