Home দেশ সংবাদ যশোরে প্রতিবাদের নতুন স্মারক ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’

যশোরে প্রতিবাদের নতুন স্মারক ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’

158
0
blank

যশোর প্রতিনিধি:

যশোরের বকুলতলায় ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টায় যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম নির্মাণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

বকুলতলায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ছিল যেখানে, সেই ঐতিহাসিক স্থানেই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু হলো। আগামী ৫ আগস্ট এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে বলে আয়োজকরা জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা, নিহতদের পরিবার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। শুরুতেই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “১৯৭১-এ আমরা বাহ্যিক শত্রুর বিরুদ্ধে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছিলাম। কিন্তু ২০২৪-এর জুলাইয়ে লড়তে হয়েছে দেশের ভেতরের এক ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে। সেই সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি শুধু একটি কাঠামো নয়—এটি সাহস, ত্যাগ ও গণপ্রতিরোধের প্রতীক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকী, নাগরিক পার্টির নেতা নুরুজ্জামান, শহীদ আব্দুল্লার পিতা আব্দুল জব্বার, জুলাই যোদ্ধা মাসুম বিল্লাহ ও আহাদ।

বক্তারা বলেন, “এই স্মৃতিস্তম্ভ যশোরবাসীর আত্মপরিচয় ও সংগ্রামী চেতনাকে ধারণ করবে। এটি শুধু অতীতকে স্মরণ করার নয়, বরং মুক্তচিন্তা, ন্যায়সংগ্রাম ও প্রতিবাদের ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা হয়ে থাকবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম, যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মোহাম্মদ শামস গোলাম হোসেন, কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার নুরশেদ আহমেদ ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা।

সার্বিক সঞ্চালনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নেতা সোহানুর রহমান সোহাগ। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে যৌথভাবে কাজ করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগ। ১৪ লাখ টাকা বাজেটের এ প্রকল্পে নির্মিতব্য স্মৃতিস্তম্ভটি হবে ১৮ ফুট উচ্চতা ও ৬ ফুট প্রস্থের। স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে খোদাই করা হবে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের রাজপথে উচ্চারিত স্লোগান—যা গণপ্রতিরোধ, প্রতিবাদ ও সাহসের চিরন্তন চিহ্ন হিসেবে থাকবে ইতিহাসে।