Home দেশ সংবাদ শ্বশুরের লালসার শিকার পুত্রবধূ

শ্বশুরের লালসার শিকার পুত্রবধূ

186
0
blank

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের সালামপুর গ্রামে এক নারকীয় ঘটনা চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত শ্বশুরবাড়ি রূপ নিয়েছে ভয়ঙ্কর এক নির্যাতনের আস্তানায়—যেখানে নিজের শ্বশুরের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক পুত্রবধূ।

ধর্ষণের শিকার ওই নারী নিজেই থানায় গিয়ে ৭ জুলাই শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নং-১৮) দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, তার শ্বশুর টুলু (৫০), পিতা গাজলুর রহমান, পূর্ব থেকেই তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। রাজি না হওয়ায় ২ জুলাই সন্ধ্যায়, স্বামী ও শাশুড়ি বাড়িতে না থাকার সুযোগে, চারটি ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করেন তিনি।

ধর্ষিতা জানান, “রাত ১২টার দিকে ঘুম ভাঙলে নিজেকে বিবস্ত্র অবস্থায় বিছানায় দেখতে পাই। পাশেই বিবস্ত্র অবস্থায় শ্বশুর শুয়ে ছিলেন। এরপর প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আবারও আমাকে ধর্ষণ করে। পরদিন সকালে ঘুম ভাঙার পর আমি পালিয়ে গিয়ে ৪ জুলাই মোবারকপুরের নানা বাড়িতে আত্মীয়দের ঘটনা জানাই।”

এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে, এর আগেও একাধিকবার লম্পট শ্বশুর কুপ্রস্তাব দিয়েছে এবং পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিয়ে সালিশ হয়েছে, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগের ভিত্তিতে শিবগঞ্জ থানার এসআই দেলওয়ার হোসেন বলেন, “ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তদন্ত চলমান এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ জোরালো অভিযান চালাচ্ছে।”

এদিকে অভিযুক্ত টুলু নিজেই সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বক্তব্য দেওয়ায় বিষয়টি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সেই বক্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, নারীর নিরাপত্তা কেবল বাইরের জগতেই নয়, ঘরের ভেতরেও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার চায় এলাকাবাসী। ভুক্তভোগীর একটাই আহ্বান—“আমি বিচার চাই, যেন আর কোনো মেয়ের জীবন এমনভাবে ছিন্নভিন্ন না হয়।”