যমুনা সংবাদ ডেস্ক:
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণে কর্মক্ষম তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ, সুশিক্ষিত ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন।”
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৫ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দেয়া এক বাণীতে তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ বছর দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হচ্ছে, এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।”
এবারের প্রতিপাদ্য— ‘Empowering Young People to Create the Families They Want in a Fair and Hopeful World’— প্রসঙ্গে ইউনূস বলেন, “এই বার্তাটি সময়োপযোগী এবং তরুণদের ভবিষ্যত নির্মাণে অন্তর্ভুক্তিমূলক চিন্তার প্রতিফলন।”
তিনি উল্লেখ করেন, “দক্ষ জনগোষ্ঠী একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশই কিশোর-কিশোরী ও তরুণ। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, জীবনমান এবং ক্ষমতায়নের ওপরই নির্ভর করছে জাতির আর্থসামাজিক অগ্রগতি।”
তিনি আরও বলেন, “টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শুধু পরিবার পরিকল্পনা বা প্রজনন স্বাস্থ্য নয়, বরং সমাজে ন্যায্যতা, ন্যায়বোধ ও সুযোগের সমতা বজায় রাখা জরুরি। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করলেই একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে প্রসঙ্গে টেনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বর্তমান সরকার বৈষম্যমুক্ত উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়ের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ। পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, এবং কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।”
প্রফেসর ইউনূস আরও বলেন, “এই কর্মযজ্ঞে শুধু সরকারের পক্ষে একা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বেসরকারি সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে।”
বাণীর শেষভাগে তিনি বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৫ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন এবং সবাইকে আহ্বান জানান— “আসুন, সকলে মিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”








