নিজস্ব প্রতিবেদক:
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা এবং একাধিক অনুচ্ছেদকে সাংবিধানিকভাবে অসাংগঠনিক ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১৩৯ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এতে সংবিধানের ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদের পাশাপাশি ২০ ও ২১ ধারাকেও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
রায়ে বলা হয়, ২০১১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোপুরি বাতিল নয়, বরং কিছু ধারা সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থী হওয়ায় সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। বাকিগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার আগামী জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রায়ে ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান বাতিল করে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনে অন্তর্ভুক্ত ৪৭ ধারাকেও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। এর ফলে ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া গণভোটের বিধান পুনরায় সংবিধানে বহাল রইল।
পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মোট ৫৪টি সংবিধান সংশোধন, সংযোজন ও প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে বলেন, এই সংশোধনী আইন পার্লামেন্ট কর্তৃক আইনগত প্রক্রিয়ায় হলেও তা ‘জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ ছাড়াই’ হয়েছে— যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই সংশোধনীকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্ট ১৯ আগস্ট রুল জারি করে সংশ্লিষ্ট আইন কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চায়। পরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় দেন আদালত।
এই রায় দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো, নির্বাচনব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক চর্চায় নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে অভিমত প্রকাশ করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।








