নীলফামারী প্রতিনিধি:
শব্দদূষণ—নীরব ঘাতক হিসেবে প্রতিনিয়ত আমাদের পরিবেশ ও মানসিক স্বাস্থ্যকে গ্রাস করছে। সেই শব্দসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আজ একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর, নীলফামারী জেলা কার্যালয়।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প-এর আওতায় আজ মঙ্গলবার (৩ জুন ২০২৫) নীলফামারী সদর উপজেলার বাইপাস মোড়ে পরিচালিত হয় হাইড্রোলিক হর্ণ বিরোধী ভ্রাম্যমাণ অভিযান।
অভিযানটি পরিচালনা করেন নীলফামারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ রায়হান উদ্দীন এবং প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
অভিযানে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহারের দায়ে ৪টি যানবাহনকে মোট ২,০০০ টাকা এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর বিধি ৬(১) লঙ্ঘনের দায়ে ১টি যানবাহনকে ১,৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
মোট ৩,৫০০ টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি ৪টি হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ করে তা তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়।
তবে এ অভিযান কেবল শাস্তিমূলকই ছিল না—জনসাধারণকে সচেতন করতেও নেয়া হয় কার্যকর পদক্ষেপ। হর্ণবিরোধী লিফলেট বিতরণ, স্টিকার লাগানো এবং চালকদের সরাসরি সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইড্রোলিক হর্ণের উচ্চমাত্রার শব্দ শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী এমনকি সুস্থ মানুষের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি কেবল কানে ঝাঁজই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, মানসিক চাপ এমনকি শ্রবণশক্তি হ্রাসের অন্যতম কারণ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শব্দদূষণের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে কেবল আইন প্রয়োগ নয়—জনসচেতনতা, নাগরিক দায়িত্ববোধ ও পরিবেশপ্রেমই পারে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে।
“শহরের প্রতিটি হর্ণ যেন না হয় একটি শিশু কানের আর্তনাদ”—এই আহ্বানেই গড়ে উঠুক একটুকরো শান্ত নীলফামারী।








