আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ওয়াশিংটন, ডিসি — মার্কিন কংগ্রেসে বিরল এক দৃশ্য দেখা গেছে সম্প্রতি, যখন রিপাবলিকান দলের কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি (Thomas Massie) খোলাখুলিভাবে ইসরায়েলকে দেয়া সকল মার্কিন সামরিক সহায়তা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান।
(১ জুন ২০২৫) BRICSNews সূত্রে জানা যায়, থমাস ম্যাসি বলেন:
“গত দুই বছরে গাজায় ইসরায়েলের হাতে যে সংখ্যক বেসামরিক মানুষ—বিশেষ করে নারী ও শিশু—নিহত হয়েছে, তা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়। এই মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে আমাদের উচিত এখনই ইসরায়েলকে দেয়া সমস্ত সামরিক সহায়তা বন্ধ করা।”
এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে এবং বিশেষ করে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সাধারণভাবে রিপাবলিকান দল ইসরায়েলের প্রতি দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত হলেও ম্যাসির এই অবস্থান প্রমাণ করে যে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেও প্রশ্ন উঠছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের জেরে ফিলিস্তিনে নিহত হয়েছে অন্তত ৩৮,০০০ এরও বেশি মানুষ, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ নারী ও শিশু। ইসরায়েলি বাহিনীর এই আক্রমণকে ‘জাতিগত নিধন’ (genocide) হিসেবে অভিহিত করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলকে বছরে প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
থমাস ম্যাসি কেন্টাকি অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত একজন কংগ্রেসম্যান, যিনি তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শে স্বাধীনচেতা ও রক্ষণশীল বলে পরিচিত। পূর্বেও তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ বা কোভিড প্রতিক্রিয়ায় সরকারী ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এবার তিনি সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা দিলেন, যা মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদলের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, থমাস ম্যাসির বক্তব্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকার দ্বিচারিতা নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার রক্ষার দোহাই দিয়ে অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, সেখানে ইসরায়েলের ব্যাপারে এমন নীরবতা ক্রমাগত প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে।
তেল-সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে BRICS জোটভুক্ত দেশগুলোও এই বক্তব্যকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করেছে।
থমাস ম্যাসির এই সাহসী উচ্চারণ একদিকে মার্কিন রাজনীতিতে একটি ভিন্ন কণ্ঠস্বর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, অন্যদিকে ইসরায়েল-গাজা সংকটে নতুন করে নৈতিক প্রশ্ন তোলার সুযোগ করে দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা এই আহ্বানে কিভাবে সাড়া দেন এবং ভবিষ্যতে তাদের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে কী পরিবর্তন আসে।








