Home আন্তর্জাতিক সংবাদ তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি চীনের

তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি চীনের

74
0
blank

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

তাইওয়ান ইস্যুতে আবারও উত্তপ্ত চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। ৩১ মে সর্বশেষ এক বিবৃতিতে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “আগুন নিয়ে খেলবেন না।” চীনের এই ভাষ্যটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের নানা পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাইরের কোনো শক্তি যদি ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ নিয়ে খেলা করে, তাহলে সেটা চীনের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, এ বক্তব্য কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি তাইওয়ানের সঙ্গে বেশ কয়েকটি সামরিক সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি বিনিময় সংক্রান্ত চুক্তিতে অগ্রসর হয়েছে।

তাইওয়ান ইস্যু বহুদিন ধরেই চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের কাঁটা। যুক্তরাষ্ট্র যদিও ‘এক-চীন নীতি’ মেনে চলে বলে দাবি করে, তবে সেই নীতির সীমার মধ্যে থেকেই তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ এবং কৌশলগত সহায়তা দিয়ে থাকে।

এই প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ের কড়া ভাষা ইঙ্গিত দিচ্ছে, নতুন কোনো উত্তেজনার আগুন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে বিশ্ব রাজনীতির আরও বিস্তৃত অঙ্গনে। বিশেষ করে BRICS, ASEAN এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ফোরামগুলো এই পরিস্থিতিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

* চীন বর্তমানে BRICS-এর নেতৃত্বে বিকল্প বৈশ্বিক ক্ষমতা কাঠামো গড়ে তুলছে।

* যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ তাইওয়ান।

* রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পটভূমিতে চীন চাইছে না, পূর্ব এশিয়া নতুন কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ুক।

* তাইওয়ান প্রশ্নে হস্তক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতির ওপর সরাসরি চাপ ফেলতে পারে, বিশেষত সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে।

এই পরিস্থিতি শুধু চীন ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব রাজনীতির গতি প্রকৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে। তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা যদি সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, তাহলে তার অভিঘাত আসবে জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে।

বিশ্ব যখন শান্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার স্বপ্ন দেখে, তখন আগুন নিয়ে খেলার রাজনীতি বিশ্ববাসীর কপালে নতুন অশনি সংকেত হয়ে দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের এই টানাপোড়েন এখন বিশ্ব নেতৃত্বের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।