Home দেশ সংবাদ ডিমলায় ভিজিএফ চালে বড় দুর্নীতি: দরিদ্রের চাল গেল কার পেটে

ডিমলায় ভিজিএফ চালে বড় দুর্নীতি: দরিদ্রের চাল গেল কার পেটে

638
0
blank

নীলফামারী (ডিমলা) প্রতিনিধি:

২০২৪-২৫ অর্থবছরের ঈদুল আযহা উপলক্ষে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ডিমলা উপজেলার ৮ নম্বর ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) চাল বিতরণে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

২৯ মে (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিনজন সুবিধাভোগীর চাল একত্রে একটি বস্তায় ঢেলে মিটারে ওজন করলে তা নির্ধারিত ৩০ কেজির চেয়ে ৬-৯ কেজি পর্যন্ত কম পাওয়া যায়। অর্থাৎ, প্রত্যেকের চালের বস্তা থেকে গড়ে ২-৩ কেজি করে কম ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. একরামুল হক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন—তার ভাই, ভাতিজা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা প্রায় ৩-৪ শতাধিক ১০ কেজি চালের স্লিপ (সনদ) অবৈধভাবে বিক্রি করেছেন। এসব স্লিপ কিনে নিচ্ছেন পাশের বাজারের এক চাল ব্যবসায়ী, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝুনাগাছ চাপানী গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্করের পুত্র মাজেদুল ইসলাম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাজেদুল ইসলাম এসব স্লিপ বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করে ‘সেটিংয়ের’ মাধ্যমে চাল উত্তোলন করে নিচ্ছেন। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান একরামুল হকের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, “কে কোথায় স্লিপ বিক্রি করেছে, সেটা আমি কিভাবে জানবো?” – এই বলে তিনি মন্তব্য এড়িয়ে যান।

ভিজিএফ স্লিপ ব্যবসায়ী হিসেবে অভিযুক্ত মাজেদুল ইসলাম বলেন, “চাল আতপ হওয়ায় অনেকেই সেটা খেতে চায় না, তাই তারা স্লিপ বিক্রি করে দিচ্ছে। আমি সেই স্লিপগুলো কিনে নিচ্ছি।” তবে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি দোকানের ড্রয়ারে স্লিপ লক করে দ্রুত চলে যান এবং বলেন, “ঈদের গরু কিনতে যাচ্ছি।”

বিতরণের তদারকিতে থাকা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও ভিজিএফ কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাক্স অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এই ইউনিয়নে ৫,০০৫ জন হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে অনিয়ম সম্পর্কে আমি মন্তব্য করতে পারছি না, কারণ আমি এই এলাকার মানুষ নই এবং এখানকার কাউকে চিনি না।”

এ ধরনের ভয়াবহ অনিয়ম ভিজিএফের মতো একটি মানবিক সহায়তা কর্মসূচির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।