গাইবান্ধা, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ (যমুনা সংবাদ): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়ার নিজ বাড়িতে আয়োজিত ভুরিভোজকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সচেতন মহলে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৪ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীচায় অবস্থিত প্রার্থীর নিজ বাড়িতে দুটি গরু জবাই করা হয়। সকাল প্রায় ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিনটি ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য ভুরিভোজের আয়োজন করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকের পক্ষ থেকে ভোটার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে খাবার, ভোজ বা উপহার প্রদান স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ভোটে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে গণ্য করার বিধান রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক অভিযোগ করে জানান, নির্বাচনী সময়ের মধ্যে এ ধরনের ভুরিভোজ আয়োজন আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, ভোটারদের আকৃষ্ট করা কিংবা দলীয় কর্মীদের মাঠে সক্রিয় রাখতে এ আয়োজন করা হয়ে থাকতে পারে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীর বাড়িতে বড় পরিসরে ভুরিভোজ আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দলীয় নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত ও সংগঠিত রাখার চেষ্টা স্পষ্ট।”
ভুরিভোজকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই এটিকে নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন, যদিও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম জিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “১৯ জানুয়ারি আমার স্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। ওই দিন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী থাকায় আমরা পারিবারিকভাবে কোনো আয়োজন করিনি। পরে ২৩ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। এর সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণা বা ভোটের কোনো সম্পর্ক নেই।”
তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আয়োজনের সময়, পরিসর ও অংশগ্রহণকারীদের বিবেচনায় বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণের আওতায় আসা প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয়—নির্বাচন কমিশন এ অভিযোগের বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়।








