Home আন্তর্জাতিক সংবাদ দিল্লিতে কড়া ভাষণে ইউনুস সরকারের বৈধতা প্রশ্নে শেখ হাসিনা

দিল্লিতে কড়া ভাষণে ইউনুস সরকারের বৈধতা প্রশ্নে শেখ হাসিনা

3
0
blank

নয়াদিল্লি ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ (আন্তর্জাতিক ডেস্ক):  বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির Foreign Correspondents’ Club (FCC)–এ দেওয়া এক বক্তব্যে বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের সামনে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে “ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক অধ্যায়” হিসেবে বর্ণনা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ আজ এক গভীর সংকটের কিনারায় দাঁড়িয়ে। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, মানবাধিকার পদদলিত এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কার্যত নিশ্চিহ্ন।” তিনি অভিযোগ করেন, নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসন দেশকে অর্থনৈতিক ও নৈতিকভাবে ‘শূন্য করে দিয়েছে’।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, গত বছরের ৫ আগস্ট সংঘটিত গণআন্দোলন কোনো স্বতঃস্ফূর্ত ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল একটি “পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র”, যার মাধ্যমে তাকে জোরপূর্বক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার ভাষায়, “আমি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলাম। আমাকে উৎখাত করা মানেই জনগণের রায়কে পদদলিত করা।”

শেখ হাসিনা বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি ও সহিংস গোষ্ঠীর সঙ্গে আঁতাতের’ অভিযোগ তুলে বলেন, এই সরকার থাকলে দেশে কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “ইউনুস গোষ্ঠীর ছায়া যতদিন থাকবে, ততদিন গণতন্ত্র বন্দি থাকবে।”

ভাষণে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত এক বছরে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া নিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত জরুরি।

বক্তব্যের শেষাংশে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে “অবৈধ প্রশাসন অপসারণ এবং সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা” ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তার এই বক্তব্য ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।