Home আন্তর্জাতিক সংবাদ ক্রেমলিনে পুতিন–ট্রাম্প প্রতিনিধিদের বৈঠক, বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ

ক্রেমলিনে পুতিন–ট্রাম্প প্রতিনিধিদের বৈঠক, বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ

6
0
blank

মস্কো, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ আন্তর্জাতিক ডেস্ক, (যমুনা সংবাদ ):  বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াল রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতায়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্রেমলিনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দুই প্রতিনিধি—বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্রিকস নিউজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বৈঠককে ঘিরে ইউক্রেন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক শান্তি কাঠামো নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৈঠকে মূলত ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমাধান, যুদ্ধবিরতি ও ভবিষ্যৎ শান্তি উদ্যোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়। রাশিয়ার পক্ষ থেকে আবারও স্পষ্ট করা হয়েছে—ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রশ্নে সমাধান ছাড়া টেকসই শান্তি সম্ভব নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আলোচনায় কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার ওপর জোর দেন বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের মাঝে একটি নতুন সংলাপের জানালা খুলেছে।

এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসে ট্রাম্প ঘোষিত একটি নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ—‘Board of Peace’। ট্রাম্প জানান, রাশিয়া যদি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ফ্রিজড রুশ সম্পদ ব্যবহার করে এই বোর্ডে যুক্ত হতে চায়, সে বিষয়ে তাঁর আপত্তি নেই। ট্রাম্পের ভাষায়, “এটি যদি শান্তির জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে বিষয়টি বিবেচনাযোগ্য।” এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘Board of Peace’ উদ্যোগটি জাতিসংঘকেন্দ্রিক প্রচলিত শান্তি কাঠামোর বাইরে একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে সমালোচকরা বলছেন, যুদ্ধরত একটি রাষ্ট্রের ফ্রিজড সম্পদ শান্তি উদ্যোগে ব্যবহারের বিষয়টি আইনগত ও নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

সব মিলিয়ে, ক্রেমলিনে পুতিন–ট্রাম্প প্রতিনিধিদের বৈঠক এবং ফ্রিজড সম্পদ ব্যবহারের প্রস্তাব আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশের সূচনা করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ, বৈশ্বিক শান্তি উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়—সেদিকেই এখন তাকিয়ে বিশ্ব।