মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা–বাবু বাজার সড়ক থেকে সুফি সাহেব হুজুর বাড়িগামী সংযোগ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বিকল্প হিসেবে সেখানে একটি স্টিল ব্রিজ স্থাপন করা হলেও সেটিও এখন চরমভাবে জরাজীর্ণ। ফলে কচুবাড়িয়া, ভাইজোড়া ও খেঁতাছিড়া—এই তিন গ্রামের পাশাপাশি বলেশ্বর নদের তীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন যাতায়াতে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক সময় এ স্থানে একটি স্থায়ী সেতু ছিল। সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী সমাধান হিসেবে স্টিল ব্রিজ স্থাপন করে। তবে দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এবং ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে বর্তমানে ব্রিজটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে; সামান্য বৃষ্টিতেই ব্রিজে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজ মিয়া ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্কের কারণে এখানে নতুন সেতু নির্মাণে কোনো বরাদ্দ আসেনি। অথচ এই পথটি সাপলেজা নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসায় যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা। পাশাপাশি সাপলেজা মডেল হাই স্কুল, লায়লা মালেকিয়া দাখিল মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ব্রিজ পার হচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ব্রিজটি ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়ার পেছনে ইট বোঝাই পিকআপ ও ট্রাকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল অন্যতম কারণ। ‘মক্কা ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইট এই ব্রিজের ওপর দিয়ে পরিবহন করা হয়। প্রতিবছর ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরকে ‘ম্যানেজ’ করে পুনরায় ইটভাটা চালু করা হয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। ভারী যানবাহনের চাপেই স্টিল ব্রিজটির অবস্থা আজ বেহাল।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহাবুব হোসেন বলেন, “স্টিল ব্রিজটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই সংস্কারকাজ শুরু হবে।”
অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী জিয়ারুল ইসলাম জানান, “এ স্থানে একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন পেলেই দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, অস্থায়ী সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হলে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।








