Home বাংলাদেশ ইতালি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও জুলাই চার্টারে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে

ইতালি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও জুলাই চার্টারে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে

5
0
blank

ছবি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ (যমুনা সংবাদ):  বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা হিসেবে প্রণীত জুলাই চার্টারে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ইতালি। মঙ্গলবার ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ সমর্থনের কথা জানান ইতালির উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী (আন্ডারসেক্রেটারি ফর ডিফেন্স) মাত্তেও পেরেগো দি ক্রেমনাগো।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অভিবাসন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং জুলাই চার্টার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে ইতালির উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, জুলাই চার্টারে যে ব্যাপক ও কাঠামোগত সংস্কারের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় ইতালির পূর্ণ সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

মাত্তেও পেরেগো বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এখন বৈশ্বিক রাজনীতির নতুন কেন্দ্র, এবং এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী ইতালি। তিনি বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির সঙ্গে ভবিষ্যতে যৌথভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও জানান, ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা ভালোভাবেই সমাজে একীভূত হচ্ছেন। তবে ভূমধ্যসাগরীয় পথে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জবাবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইতালির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি মিলানো–কোর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিককে একটি সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক আয়োজন হিসেবে পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জাপান ও ইতালির মতো উন্নত দেশে জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হয়ে উঠছে, সে কারণে আইনসম্মত অভিবাসন সম্প্রসারণে বাংলাদেশ আগ্রহী। তিনি পুনরায় দৃঢ়ভাবে জানান, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও উৎসবমুখর।

প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় আকারের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচনে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি থাকবে। এ সময় তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে একটি ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত তথাকথিত নির্বাচনে বহু তরুণ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ জোরদারে ইতালির সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।