পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড় জেলার দুই সংসদীয় আসনে একটি ভোটকেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাচপীর ইউনিয়নের মেনাগ্রাম বেগম ফেরদৌসী হাফেজিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় প্রায় ২৫ বছর ধরে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। এটি এলাকার ভোটারদের জন্য সহজ যোগাযোগযোগ্য ও মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
তবে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার আমলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটকেন্দ্রটি লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন জয়কৃষ্ণ বলহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে ভোটারদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, অপর্যাপ্ত যাতায়াত ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিসহ নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
এমন পরিস্থিতিতে পাচপীর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটারদের পক্ষ থেকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রটি পুনরায় পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে আনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করা হয়। আবেদনটি পর্যালোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন ফেরদৌসী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ভোটকেন্দ্র পুনঃস্থাপনের অনুমোদন দেয়।
এদিকে, গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে যে, ভোটকেন্দ্রটি বিএনপি প্রার্থীর সুবিধার্থে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এর পরদিন বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আবুল হোসেন তবারক হ্যাপি। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকেই ভোটকেন্দ্রটি মেনাগ্রাম বেগম ফেরদৌসী হাফেজিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অবস্থিত ছিল। এটি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানে এবং পাকা রাস্তার পাশে অবস্থিত। ফ্যাসিস্ট আমলে অসৎ উদ্দেশ্যে ভোটকেন্দ্রটি দূরবর্তী জয়কৃষ্ণ বলহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে ভোটকেন্দ্রটি পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে দেওয়ায় সাধারণ ভোটাররা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অথচ জামায়াতে ইসলামী বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দূরবর্তী স্থানে ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার দাবি তুলেছে, যা একটি অপতৎপরতা। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
স্থানীয় ভোটারদের মতে, ভোটকেন্দ্রটি মধ্যবর্তী ও সহজ যোগাযোগযোগ্য স্থানে থাকলে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং নির্বাচন আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে।








