Home রাজনীতি জিয়া পরিবারের দ্বন্দ্বে নীলফামারীতে বিএনপি জোট অস্বস্তিতে

জিয়া পরিবারের দ্বন্দ্বে নীলফামারীতে বিএনপি জোট অস্বস্তিতে

3
0
blank

নীলফামারী প্রতিনিধি :

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নীলফামারীর দুটি সংসদীয় আসনে বিএনপি জোটের ভেতর সৃষ্টি হয়েছে ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একই জোটে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়—পিতা ও পুত্র—ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে নির্বাচনী মাঠে নামায় জোটের ঐক্য, সমঝোতা ও ভোটের হিসাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা) আসনে বিএনপি জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় বোনের স্বামী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। অপরদিকে, নীলফামারী-২ (সদর) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন খালেদা জিয়ার বড় বোনের ছেলে ও অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের পুত্র ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী (তুহিন)।

ফলে জেলার দুই সংসদীয় আসনে একই পরিবারের পিতা–পুত্রের সমান্তরাল ও ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি শুধু জোটের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং বিএনপির সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের হিসাব মাথায় রেখেই পিতা–পুত্র ভিন্ন কৌশলে নির্বাচনে নেমেছেন। এতে করে জোট প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জোট সমঝোতার অংশ হিসেবে নীলফামারী-১ আসনটি বিএনপি ছেড়ে দেয় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে। এরই ধারাবাহিকতায় নীলফামারী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী করা হয় তারেক রহমানের খালাতো ভাই অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহরিন ইসলাম চৌধুরীকে। এই সিদ্ধান্তের পরপরই অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম নীলফামারী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিলেও তথ্যগত অসংগতি দেখিয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়ন বাতিল করেন। তবে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে নির্বাচন কমিশনে শুনানি শেষে গত ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল করা হয়। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই—এটি আমার জন্য একটি প্রেস্টিজ ইস্যু।”

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই নীলফামারী-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

বর্তমানে মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, নীলফামারী-১ আসনে বিএনপির একটি অংশ জোট মনোনীত প্রার্থী জমিয়তের মহাসচিবের পক্ষে সক্রিয় থাকলেও আরেকটি অংশ প্রকাশ্য ও নীরব সমর্থন দিচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে। এতে জোটের ভোট বিভাজন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে নীলফামারীর দুই সংসদীয় আসনে বিএনপি জোটের অভ্যন্তরীণ এই পারিবারিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে—তা জানতে কৌতূহল ও উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছেন জেলার ভোটাররা।