ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ (যমুনা সংবাদ): দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে জাতীয় বেতন কমিশন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতনকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন যেখানে ৮,২৫০ টাকা, সেখানে নতুন প্রস্তাবে তা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে প্রায় ১৮ হাজার টাকা বা তার বেশি নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকারও বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। নতুন কাঠামোতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে ১:৮।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে হিসাব করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে, যা নতুন বেতনকাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বছরের জুলাই মাসে গঠিত ২১ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন, সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান-এর নেতৃত্বে কাজ করে আসছে। কমিশনের প্রতিবেদন ছয় মাসের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, চূড়ান্ত প্রতিবেদন ২১ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে জমা দেওয়া হবে। এরপর উপদেষ্টা পরিষদের আলোচনা ও অনুমোদনের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন বেতনকাঠামো শুধু বেতন বৃদ্ধির বিষয় নয়; বরং এটি সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ লাঘবের একটি বড় উদ্যোগ। প্রস্তাবে বিশেষভাবে নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া সহজ হয়।
সরকারি চাকরিজীবী ও সংশ্লিষ্ট মহল নতুন এই বেতনকাঠামোকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও, বাস্তবায়নের সময়সূচি ও বাজেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকেরা।








