Home আন্তর্জাতিক সংবাদ ইরানের ক্রিপ্টো অর্থনীতি ৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

ইরানের ক্রিপ্টো অর্থনীতি ৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

3
0
blank

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | যমুনা সংবাদ

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্রিকস নিউজ ( ব্রিকস নিউজ ) ও অন্যান্য বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের ক্রিপ্টোকারেন্সি ইকোসিস্টেমের বাজারমূল্য প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) ২ শতাংশেরও বেশি। অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মুদ্রামূল্যের ধারাবাহিক অবনতির প্রেক্ষাপটে ইরানে ডিজিটাল মুদ্রার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ব্লকচেইন বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান চেইনালাইসিস (Chainalysis)–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইরানে অন-চেইন ক্রিপ্টো লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত লেনদেনের পরিমাণ এর চেয়েও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক কার্যক্রম এখনো সম্পূর্ণভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানি রিয়ালের মূল্যপতন, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাহীনতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ বিটকয়েনসহ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সিকে বিকল্প ও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বিক্ষোভ, ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক বিধিনিষেধ জোরদার হওয়ার সময় ব্যক্তিগত ক্রিপ্টো ওয়ালেটে অর্থ স্থানান্তরের প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের কিছু রাষ্ট্রীয় ও আধা-রাষ্ট্রীয় সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওয়ালেট থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্রিপ্টো লেনদেন হয়েছে। বিশেষ করে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)–সংশ্লিষ্ট ঠিকানাগুলোর মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল সম্পদের লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ক্রিপ্টো উত্থান শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা ও নিষেধাজ্ঞা নীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী দিনে ক্রিপ্টো নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক নজরদারি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সার্বিকভাবে, ইরানে ক্রিপ্টোকারেন্সি এখন আর প্রান্তিক কোনো প্রযুক্তি নয়; বরং এটি দেশটির অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার বিকল্প উপায় হিসেবে যেমন এর ব্যবহার বাড়ছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও এটি কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে।