ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া
মস্কো, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ (যমুনা সংবাদ) — রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের স্বীকৃতি (অ্যাক্রেডিটেশন) অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমান ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক সম্পর্ক গড়ার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি একযোগে একাধিক দেশের রাষ্ট্রদূতের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি গ্রহণ করেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্রিকস নিউজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানায়, এবারের স্বীকৃতি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে এমন ১১টি দেশের প্রতিনিধিও রয়েছেন, যাদের রাশিয়া বর্তমানে ‘অবন্ধু রাষ্ট্র’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করে। ইউক্রেন যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে এই দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, রাশিয়া কারও সঙ্গে সংঘাত চায় না। বরং আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। তিনি বলেন, “রাশিয়া সব আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে সমান ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত।”
পুতিন আরও জানান, রাশিয়া একটি বহুমাত্রিক বা মাল্টিপোলার বিশ্বব্যবস্থা গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যেখানে কোনো একক শক্তির আধিপত্য থাকবে না। তার মতে, এই ব্যবস্থাই বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে কার্যকর।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ‘অবন্ধু রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের স্বীকৃতি প্রদান রাশিয়ার কূটনৈতিক অবস্থানের একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা। এর মাধ্যমে মস্কো স্পষ্ট করেছে যে, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ বন্ধ করতে চায় না রাশিয়া।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাশিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান পুনর্নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন কূটনীতি বিশ্লেষকরা।








