Home আন্তর্জাতিক সংবাদ চীন–কানাডা সম্পর্কে নতুন বার্তা: মার্কিন প্রভাব থেকে দূরে থাকার আহ্বান বেইজিংয়ের

চীন–কানাডা সম্পর্কে নতুন বার্তা: মার্কিন প্রভাব থেকে দূরে থাকার আহ্বান বেইজিংয়ের

6
0
blank

বেইজিং, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ (যমুনা সংবাদ): কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে চীন কানাডার প্রতি স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ বলেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে হলে কানাডাকে তার পররাষ্ট্রনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থেকে দূরে থেকে আরও স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্রিকস নিউজ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যে বলা হয়, কানাডা যদি নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় এবং বড় শক্তির ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ না হয়, তাহলে চীন–কানাডা সম্পর্ক নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার বাস্তব সুযোগ তৈরি হবে। বেইজিং মনে করছে, ওয়াশিংটনের নীতির সঙ্গে অতিরিক্ত সামঞ্জস্য অতীতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির এই সফরকে প্রায় এক দশক পর চীন–কানাডা উচ্চপর্যায়ের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরকালে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি সহযোগিতা—এই পাঁচটি খাত আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। দুই পক্ষই শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানো এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে হুয়াওয়ের এক শীর্ষ নির্বাহীকে গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীতে দুই দেশের নাগরিক আটককে কেন্দ্র করে চীন–কানাডা সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি ঘটে। এর প্রভাব পড়ে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক যোগাযোগে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র–চীন প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায়, কানাডার মতো মিত্র দেশগুলোর অবস্থান নিয়ে বেইজিং আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

কানাডার দৃষ্টিকোণ থেকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজার ও অংশীদার খোঁজার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। এই বাস্তবতায় চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন অটোয়া সরকারের জন্য কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের এই আহ্বান শুধু কানাডার জন্য নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর বার্তা—বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে আগ্রহী দেশগুলোর জন্য চীন নিজেকে বিকল্প অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। আগামী দিনগুলোতে কারনি সফরের ফলাফলই নির্ধারণ করবে চীন–কানাডা সম্পর্ক কতটা নতুন পথে এগোতে পারে।