Home দেশ সংবাদ সাংবাদিকদের অবমাননা: গাইবান্ধায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিশির প্রত্যাহার

সাংবাদিকদের অবমাননা: গাইবান্ধায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিশির প্রত্যাহার

8
0
blank

ছবি: উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিশির চন্দ্র দেবনাথ

গাইবান্ধা, বুধবার (যমুনা সংবাদ): গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্যের দায়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাইবান্ধা কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিশির চন্দ্র দেবনাথকে দপ্তরের সকল কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে বিষয়টি মোবাইল ফোনে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. মেহেদী হাসান। তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দপ্তরের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকায় এই মুহূর্তে শিশির চন্দ্র দেবনাথের বদলি সম্ভব নয়। তবে তাকে বদলির জন্য ঊর্ধ্বতন মহলে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করে বলেন, ঠিক এই মুহূর্ত থেকে অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী গাইবান্ধা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং কোনো ধরনের দাপ্তরিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন না।

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন শিশির চন্দ্র দেবনাথ। এ ঘটনার পর জেলায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয় ঘেরাওয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকরা ঘণ্টাব্যাপী কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন। তবে কর্মসূচির খবর পেয়ে অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আগেই অফিস ত্যাগ করে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করতে পারেন না। এ ধরনের আচরণ শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতিও হুমকি। তারা শিশির চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শিশির চন্দ্র দেবনাথের বিরুদ্ধে মামলা করেন গাইবান্ধার এক নারী সাংবাদিক দিশা আক্তার। মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তথ্য ও বিজ্ঞাপন সংগ্রহের জন্য দিশা আক্তার তার কক্ষে প্রবেশ করলে শিশির চন্দ্র দেবনাথ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন। এ সময় তার হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

পরে এ ঘটনায় দিশা আক্তার বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় (মামলা নং–৪৯) শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী বেলাল আহমেদ ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শিশির চন্দ্র দেবনাথকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

একাধিকবার বিতর্কে জড়ানো এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় জেলায় প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।