Home দেশ সংবাদ অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় ঢাকায় নেওয়ার পথে রোগীর মৃত্যু

অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধায় ঢাকায় নেওয়ার পথে রোগীর মৃত্যু

9
0
blank

শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি :

শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধার কারণে ঢাকায় নেওয়ার পথে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট দুই দফায় অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় দেড় ঘণ্টার বেশি সময় নষ্ট হয় বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম জমশেদ আলী ঢালী (৭০)। তিনি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা।

স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে জমশেদ আলীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে স্ট্রোকজনিত জটিলতায় আক্রান্ত উল্লেখ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।

রোগীর স্বজনেরা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে ছয় হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেন। তবে রোগী অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর পর ভাড়া আরও বাড়ানোর দাবি করা হয়। এতে আপত্তি জানিয়ে স্বজনেরা তাঁদের পরিচিত একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

এরপরই অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া এলাকায় রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেন। তাঁরা দাবি করেন—স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স বাদ দিয়ে বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে কেন রোগী নেওয়া হচ্ছে। একই অভিযোগে পরে জামতলা এলাকায় আবারও অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখা হয়।

নিহতের পরিবার জানায়, দুই দফায় প্রায় দেড় ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার ফলে রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অবরোধ থেকে মুক্ত হয়ে ঢাকার দিকে রওনা হলেও বিকেল চারটার দিকে পথেই জমশেদ আলী মারা যান। ঢাকায় পৌঁছালেও তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নিহতের নাতি জোবায়ের হোসেন বলেন, “স্থানীয় সিন্ডিকেটের অ্যাম্বুলেন্স না নেওয়ার কারণে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সটি দুই জায়গায় আটকে রাখে। দেড় ঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পর আমরা ছাড় পাই। কিন্তু ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই আমার নানার মৃত্যু হয়।”

রাত আটটার দিকে নিহতের লাশ নিয়ে স্বজনেরা পালং মডেল থানায় যান এবং ঘটনাটি মৌখিকভাবে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাশেদ আহমেদ বলেন, “সকালের দিকে বয়স্ক এক রোগী স্ট্রোকজনিত সমস্যা নিয়ে ভর্তি হন। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পথে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে আমরা অবগত নই।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সচালক সুমন খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঢাকাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সে শরীয়তপুর হাসপাতালের রোগী ওঠানোর কারণ জানতে চেয়েছিলাম মাত্র। আমি কোনো অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখিনি। অভিযোগটি সঠিক নয়।”

উল্লেখ্য, এর আগেও শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কারণে প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ১৪ আগস্ট শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়ার ঘটনায় এক নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় মামলা হলেও সিন্ডিকেট কার্যত রয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে—রোগী পরিবহনে অবৈধ নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কবে নিশ্চিত হবে?