ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক সেনা সদস্য আটক হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সেনা সদস্যসহ মোট পাঁচজনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১২ জানুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার মতিরবাজার এলাকায়।
আটক সেনা সদস্যের নাম মো. আলী হোসেন (১৯)। তিনি ডিমলা উপজেলার টেপাখরিবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ খরিবাড়ী এলাকার তেলিবাজার গ্রামের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি সাভার ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত রয়েছেন।
ভুক্তভোগী তরুণী মতিরবাজার এলাকার জয়নাল মিয়া (ছদ্মনাম)-এর কন্যা, যিনি সুমি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন থেকে চার বছর ধরে সেনা সদস্য আলী হোসেনের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। সেনাবাহিনীতে চাকরিতে যোগদানের পর আলী হোসেন বিয়ের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে শুরু করলে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
সোমবার রাতে আলী হোসেন মেয়েটির বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় উভয় পক্ষই তাদের প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। পরে মেয়ের পরিবার বিয়ের দাবি জানালে আলী হোসেন সম্মতি প্রকাশ করেন। তবে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের উদ্যোগে পাশের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে উভয়ের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনা সদস্য ও ওই তরুণীকে উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, “আমাদের মধ্যে কয়েক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আলী হোসেন আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই বিশ্বাসের ওপর ভর করেই আমরা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়াই। পরে বিষয়টি নিয়ে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি।”
অন্যদিকে সেনা সদস্য মো. আলী হোসেন জানান, “প্রশিক্ষণ শেষে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর আমি মেয়ের বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। ছুটিতে বাড়িতে এসে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করতে গেলে এলাকাবাসী ও তার ভাই আমাকে আটক করে। পরে আমাদের বিয়ে দেওয়া হয়।”
আলী হোসেনের বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “ঘটনার রাতে আমি থানায় একটি এজাহার দিই। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আমার ছেলে, মেয়েসহ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য ওসি স্যারের কাছে অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু মামলা রেকর্ড হওয়ায় আদালতে পাঠানো ছাড়া উপায় নেই বলে জানান তিনি।”
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শওকত আলী সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সেনা সদস্যসহ মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে তাদের জেলা বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।”








