গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
পিতার সম্পত্তির ভাগ ও অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে বড় বোনকে হত্যার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা পৌরসভার দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকার বাসিন্দা আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে রবিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জনসম্মুখে নিজের অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী বড় বোন আঞ্জুয়ারা বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আঞ্জুয়ারা বেগম জানান, তার পিতার বাড়ি পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামে। পিতা আব্দুল আউয়ালের মৃত্যুর পর থেকেই ভাই আপেল মাহমুদ স্থানীয় মাস্তান মধু মিয়ার সহায়তায় পারিবারিক নির্যাতন ও চাঁদাবাজি শুরু করেন। পরিবারের শান্তির স্বার্থে তার স্বামী নজরুল ইসলাম সময়ে সময়ে আপেল মাহমুদকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এতে নির্যাতনের মাত্রা কমেনি, বরং বেড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সম্পত্তির ভাগ নষ্ট করতেই পরিকল্পিতভাবে দুই বছর আগে তার ছেলে আতিকুল ইসলাম নয়নের সঙ্গে আপেলের মেয়ে আশরাফি আকতার অন্তরার বিয়ে দেন। দেনমোহর ধার্য করা হয় ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বিয়ের ছয় মাস না যেতেই আপেল মাহমুদ ওই টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনায় মানবাধিকার সংগঠনে গিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দেন এবং পরে যৌতুকের মামলা করে পুরো দেনমোহরের টাকা আদায় করেন।
আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, আপেল মাহমুদ তার স্ত্রী সোমা বেগম ও মেয়েদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার বিকেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আপেল মাহমুদ, তার স্ত্রী সোমা বেগম, মেয়ে অন্তরা ও অনন্যা এবং মাস্তান মধু মিয়া মিলে আঞ্জুয়ারার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এলোপাথারি মারধরের সময় আঞ্জুয়ারার কান ও শরীর জখম হয় এবং তার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেয়া হয়। তার আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় আহত আঞ্জুয়ারাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের জীবন ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে তার স্বামী নজরুল ইসলাম, ছেলে নয়ন এবং চাচাতো ভাই আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।








