Home বাংলাদেশ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে হেফাজত নেতৃবৃন্দের বৈঠক

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে হেফাজত নেতৃবৃন্দের বৈঠক

178
0
blank

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

আজ শনিবার ২৬ জুলাই রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই বৈঠকে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, হেফাজত নেতাকর্মীদের ওপর পূর্ববর্তী সরকারের দমনপীড়ন এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় উঠে আসে।

বৈঠকে শাপলা হত‍্যাকাণ্ডে নিহত ও আহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান, সেই ঘটনায় ব্যবহৃত শক্তি ও সহিংসতার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ এবং এই ঘটনার আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানের পথ সুগম করতে জাতিসংঘের মাধ্যমে তদন্তের প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়।

হেফাজত নেতৃবৃন্দ পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে দৃশ্যমান অগ্রগতি দাবি করেন এবং বলেন, “এই প্রশ্নে আর কালক্ষেপণের সুযোগ নেই। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

বৈঠকে অংশ নেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় শূরা ও নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যবৃন্দ, যাদের মধ্যে ছিলেন– মাওলানা খলিল আহমদ কুরাইশী, মাওলানা সাজেদুর রহমান, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি বশির উল্লাহ ও মুফতি কেফায়তুল্লাহ আজহারী।

সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

সূত্র জানায়, আলোচনার tone ছিল গঠনমূলক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধপূর্ণ। প্রধান উপদেষ্টা এ সময় বলেন, “হেফাজতের প্রতি অবিচার ও সহিংসতা যে হয়েছে তা জাতি আজ উপলব্ধি করছে। ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সমাধান হবে।”

এ বৈঠককে পর্যবেক্ষক মহল বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন শুরুর বার্তা হিসেবে দেখছে—যেখানে ধর্মীয় নেতৃত্ব, নাগরিক অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার নতুন অধ্যায় সূচিত হতে পারে।