Home দেশ সংবাদ কচা নদীর ভাঙনে আবারও নিঃস্ব নদীতীরের মানুষ

কচা নদীর ভাঙনে আবারও নিঃস্ব নদীতীরের মানুষ

97
0
blank

ইন্দুরকানী প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার কচা নদীর তীরবর্তী এলাকায় নির্মিত নতুন বেড়িবাঁধ উদ্বোধনের দুই মাসের মধ্যেই ধসে পড়তে শুরু করেছে। এতে তীরবর্তী কয়েক হাজার পরিবার নতুন করে বন্যা ও ভাঙনের আতঙ্কে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি দুর্নীতি ও অস্থায়ী নির্মাণ প্রক্রিয়ায় কাজ করায় নদীর স্রোতে এই বাঁধ টিকতে পারছে না।

২০২৪ সালের ২৬ ও ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে কচা নদীর তীরে প্রবল জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যায়। নদীগর্ভে হারিয়ে যায় শত শত বাড়িঘর, প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। তবু ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ তেমন সরকারি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

পরে জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকা নৌপথে পরিদর্শন করে আংশিক বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন। তারই অংশ হিসেবে টগড়া এলাকার মাত্র দেড় কিলোমিটার বাঁধ পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই মাসের মাথায় তীব্র পানির চাপে তা ধসে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, বাঁধ নির্মাণে যথাযথ টেকনিক্যাল পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। পাশের জমি থেকে মাটি কেটে বাঁধ তোলা হয়, ফলে মাটি শক্ত না হওয়ায় পানির স্রোতে তা দ্রুত ধসে পড়ে।

টগড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নেসার উদ্দিন বলেন, “দুই মাস আগে বাঁধ নির্মাণ শেষ হলেও এখনই ভেঙে পড়ছে। বর্ষা পুরোপুরি শুরু হলে আমরা জানি না কোথায় গিয়ে দাঁড়াব।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, কচা নদীতীরবর্তী টগড়া, চন্ডিপুর, খোলপেটুয়া, সাঈদখালীসহ বেশ কিছু ইউনিয়নের বহু স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে আছে। এখনো এসব এলাকায় কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি, ফলে প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

চন্ডিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, “টেকসই বেড়িবাঁধ ও স্লুইসগেট ছাড়া এই দুর্যোগ থেকে বাঁচা সম্ভব নয়। সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

একই দাবি করেন পাড়েরহাট ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার। তিনি বলেন, “যথাযথ পরিকল্পনা ও নজরদারির অভাবে বাঁধ তৈরি করেই টাকা খরচ করা হচ্ছে, অথচ মানুষ রক্ষা পাচ্ছে না।”

বাঁধ ধসের বিষয়টি স্বীকার করেছেন পিরোজপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নুসাইব হোসেন। যমুনা সংবাদকে তিনি বলেন, “ধসে যাওয়া স্থানগুলো চিহ্নিত করে আমরা নতুন করে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলে টেকসইভাবে নির্মাণ কাজ শুরু হবে।”

তবে এলাকার মানুষের প্রশ্ন—বারবার ধসে পড়া বাঁধের পেছনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও, কেন টিকছে না কাজ? এবং এভাবেই কি প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ডুবে যাবে তাদের ঘরবাড়ি, ফসল আর স্বপ্ন?