ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডোমার উপজেলা পরিষদের মোড়ে অবৈধভাবে লটারির টিকিট বিক্রি হওয়ার ঘটনায় টিকিট বিক্রেতাদের আটকের পরও এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি—এমন অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নীলফামারী জেলা শাখার সিনিয়র সদস্য অ্যাডভোকেট আসিফ ইকবাল মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে তার ব্যক্তিগত ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন,
“আমি প্রথমে ইউএনও, এরপর ডোমার থানা ও সর্বশেষ এসপি নীলফামারীকে ফোন করে জানালেও দুঃখজনকভাবে এক ঘণ্টার মধ্যে কেউই ঘটনাস্থলে আসেননি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সময়ের মধ্যে ডোমার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. কাওসার এবং ডোমার উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. শাহীন আলম শান্তসহ ৭-৮ জন এসে তাকে ব্যাপক হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টিকিট বিক্রেতাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য করে। তারা দাবি করে, এই টিকিট বিক্রয় ‘নিয়ম মেনেই’ করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় স্থানীয় জনতাও তা প্রত্যক্ষ করলেও কেউ কিছু বলার সাহস করেনি বলে জানান আসিফ ইকবাল মাহমুদ।
পোস্টে প্রশাসনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন,
“আপনারা যদি বাংলাদেশের হয়ে কাজ করেন তবে ভাল, নাহলে এই দেশের জনতা আপনাদের ক্ষমা করবে না।”
রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ করে তিনি আরও লেখেন,
“এমন ছ্যাচড়া লোভীদের নেতা বানালে দলের ভাবমূর্তি ধ্বংস হয়ে যাবে। জনগণ পরে মুখ ফিরিয়ে নেবে। মনে রাখবেন, জনতা কিন্তু রাস্তায় নামতে ইস্যু খোঁজে মাত্র।”
প্রসঙ্গত, নীলফামারীর সৈয়দপুরে “ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা ২০২৫” লটারির নামে বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণা ও সাধারণ মানুষকে প্রলোভনে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বহুদিনের। অথচ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাবের আশ্রয়ে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।
ডোমারের এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে সচেতন মহল থেকে।








