নিজস্ব প্রতিবেদক, নীলফামারী:
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত ‘গণহত্যার’ বিচার দাবিতে ‘জুলাই দ্রোহ’ কর্মসূচির আওতায় নীলফামারীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলটির নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকা হাতে অংশগ্রহণ করেন।
মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরঙ্গী মোড়ে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। পুরো কর্মসূচিতে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার চাই’, ‘গুম-খুনের রাজনীতি চলবে না’, ‘পলাতক শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার করো’—এমন স্লোগানে মুখর ছিল গোটা এলাকা।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসাদুল ইসলাম।
উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নীলফামারী জেলা শাখার সাবেক সভাপতি আহমেদ রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক খতিব উদ্দিন, সহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল ইসলাম বলেন,
“জুলাই মাস আমাদের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অধ্যায়। রাষ্ট্রীয় মদদে আমাদের আদর্শিক সহকর্মীদের হত্যার শিকার হতে হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা—যিনি এখন দেশের বাইরে পলাতক। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আন্তর্জাতিক মানের আদালতে বিচার করতে হবে।”
সাবেক সভাপতি আহমেদ রহমান বলেন,
“ছাত্রশিবিরের জনপ্রিয়তা এবং আদর্শিক ভিত্তিকেই ভয় পেয়েছে বর্তমান সরকার। ফলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় রেখে একের পর এক গুম, খুন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে দমন চালানো হয়েছে।”
ছাত্রনেতা খতিব উদ্দিন বলেন,
“আমরা সন্ত্রাস বা বিশৃঙ্খলায় বিশ্বাস করি না। আমরা যুক্তিভিত্তিক, আদর্শিক ও শান্তিপূর্ণ গণপ্রতিরোধে আস্থাশীল। তবে রাষ্ট্র যদি বর্বর হয়, জনগণ প্রতিরোধ করবেই।”
সমাবেশ থেকে বক্তারা যেসব দাবি তুলে ধরেন:
২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যাসহ অতীতের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা।
গুম-খুন ও দমন-পীড়নের দায়ে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করা।
দেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রতিষ্ঠা করা।








