Home দেশ সংবাদ ২১ বছর পর রায়: উদ্ভাবক দুলাভাইসহ চারজনের যাবজ্জীবন

২১ বছর পর রায়: উদ্ভাবক দুলাভাইসহ চারজনের যাবজ্জীবন

169
0
blank

ছবি প্রতীকী

যশোর প্রতিনিধি:

২১ বছর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। অবশেষে বিচার পেলেন বেনাপোলের ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক সুজায়েতুজ্জামান প্রিন্স। তাকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে উদ্ভাবক পরিচিত দুলাভাই মিজানুর রহমান মিজানসহ চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জয়ন্তী রানী দাস আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত চারজনই ২০০৪ সালে প্রিন্সকে হত্যার পর তার মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।

মিজানুর রহমান মিজান (দুলাভাই, উদ্ভাবক পরিচিতি), পিতা আক্কাস আলী মোড়ল, গ্রাম- আমতলা গাতীপাড়া, শার্শা।

ইকবাল হোসেন, পিতা গোলাম মণ্ডল, গ্রাম- ভাটাডাঙ্গা, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ।

সেকেন্দার, ওরফে ঘাড়কাটা কালুর ছেলে, গ্রাম- কাগজপুকুর, বেনাপোল।

জসিম, পিতা আব্দুল করিম, একই গ্রামের বাসিন্দা।

রায়ের সময় অভিযুক্ত মিজান ও সেকেন্দার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারক তাদের তাৎক্ষণিক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাকি দুই পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক।

২০০৪ সালের ২০ আগস্ট প্রিন্স তার নিজ গ্রাম পোড়াবাড়ি নারায়ণপুর থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন এবং আর ফিরে আসেননি। পরদিন সকালে ছোট নিজামপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ পড়ে ছিল।

নিহতের মামা বকতিয়ার বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন এবং সন্দেহ প্রকাশ করেন দুলাভাই মিজানের প্রতি, যিনি প্রিন্সের মোটরসাইকেলটি চাচ্ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তদন্তে উঠে আসে, পরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের জন্যই প্রিন্সকে হত্যা করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আফজাল হোসেন চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। অবশেষে দুই দশক পরে এলো ন্যায়বিচারের রায়।

মামলার রায়কে স্বাগত জানিয়ে নিহত প্রিন্সের পরিবার বলেছেন, “যদিও সময় লেগেছে দীর্ঘ ২১ বছর, তবুও বিচার পেয়েছি, এটাই আমাদের জন্য স্বস্তি। আমরা চাই দ্রুত পলাতকদেরও গ্রেপ্তার করে শাস্তি কার্যকর করা হোক।”

এ রায় প্রমাণ করে যে, অপরাধী যতই সময় যাক না কেন, বিচারের মুখোমুখি হতেই হয়। ন্যায়বিচার অবশেষে প্রাপ্য ব্যক্তির দোরগোড়ায় পৌঁছে।