Home দেশ সংবাদ সেনা পরিচয়ে প্রতারণা, গণপিটুনির পর আটক

সেনা পরিচয়ে প্রতারণা, গণপিটুনির পর আটক

107
0
blank

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয়ে একাধিক নারীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিয়ে ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সদরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক প্রতারক গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পাঠানপাড়া বাজার এলাকায় জনতার হাতে ধরা পড়েন তিনি। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে ও তার সহযোগীকে পুলিশে সোপর্দ করে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিনাথপুর বিষপুকুর গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে সদরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় নারীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এরপর মোটা অঙ্কের যৌতুক আদায় করে বিয়ের নাটক সাজিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই গা ঢাকা দেন।

এরকমই এক ঘটনায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ছাতিনালী গ্রামের আব্দুর রউফ আকন্দের মেয়েকে বিয়ে করেন তিনি। ওই বিয়েতে পাঁচ লাখ টাকা কাবিন ধার্য থাকলেও, আগেই কৌশলে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক হিসেবে আদায় করেন সদরুল। তবে বিয়ের মাত্র আড়াই দিন পরেই তিনি নিরুদ্দেশ হয়ে যান।

সম্প্রতি ফের বিয়ের উদ্দেশ্যে ক্ষেতলালের হোপিরহাট এলাকায় আসেন সদরুল। স্থানীয় ঘটক আমিরুল ইসলাম পাত্রী দেখানোর সময় তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে বিষয়টি ঘনীভূত হয়। এরপর জনতার সহায়তায় সদরুলকে আটকের পর পাঠানপাড়া বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে পূর্বের ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাস্থলে এসে তাকে শনাক্ত করে।

জনতার রোষানলে পড়ে সদরুল ও তার সহযোগী আব্দুর রহিম (৫৫), পিতা: আলাল উদ্দিন, গ্রাম: হরিনাথপুর—উভয়েই গণপিটুনির শিকার হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের হেফাজতে নেয়।

এ বিষয়ে ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, “সেনা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে সদরুল ইসলাম ও তার এক সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে, মামলার প্রস্তুতি চলছে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ধরনের প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আরও অনেক নারী এমন প্রতারণার শিকার হতে পারে। তারা এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।