বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
রাজধানীর উত্তরায় দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে শিক্ষিকা মাহরীন চৌধুরীসহ কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় দেশের প্রতিটি হৃদয়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সেই শোক ছুঁয়ে গেছে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা জুড়েও। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিনব্যাপী বড়লেখার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় শোকের অংশ হিসেবে পালন করা হয় শোক ও প্রার্থনার কর্মসূচি।
আজ সকালে উপজেলার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
দাসেরবাজার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক রঞ্জন দাস বলেন, “শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন শিক্ষিকা মাহারীন চৌধুরী। আমরা তাকে শিক্ষক সমাজের একজন অনন্য উদাহরণ হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনা যেন আর কখনো না ঘটে, সেই প্রার্থনাও করছি।”
দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসুক আহমদ বলেন, “মাইলস্টোন স্কুলের দুর্ঘটনা আমাদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের রক্ষায় যেভাবে এক শিক্ষিকা আত্মত্যাগ করেছেন, তা আমাদের জাতির জন্য এক অমূল্য শিক্ষা। বড়লেখার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।”
ইটাউরী হাজী ইউনুছমিয়া মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনাম উদ্দিন বলেন, “আমি নিজেই ভিডিও ফুটেজ দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। এই ঘটনা কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”
শিশু শিক্ষা একাডেমি, ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের চোখেও ছিল বিষাদের ছাপ। তারা ছোট ছোট হাতে দোয়া তুলে প্রার্থনা করেছে নিহতদের আত্মার শান্তির জন্য।
উল্লেখ্য, সোমবার রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষিকা মাহারীন চৌধুরীসহ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় নাগরিক প্রাণ হারান। আহত হন শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে চলছে শোক ও প্রতিবাদের ঝড়।








