আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্রিকস নিউজ সূত্রে জানা গেছে, আজ ২৩ জুলাই হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ নাগরিক রাস্তায় নেমে সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ, দুর্নীতি এবং যুদ্ধনীতি বিরোধী স্লোগানে উত্তাল করেছে রাজধানীর কেন্দ্রীয় চত্বর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের আশপাশের এলাকা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধে জনগণের জীবন-জীবিকা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পশ্চিমা সামরিক জোটগুলোর স্বার্থে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করছেন। অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন, সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের মাধ্যমে একনায়কতান্ত্রিক শাসনের দিকে ঝুঁকেছেন জেলেনস্কি।
ইউক্রেনজুড়ে চলমান সামরিক শাসন পরিস্থিতিতে বিরোধীদের কণ্ঠ রোধের অভিযোগ উঠেছে। কিয়েভের বিক্ষোভেও নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন আহত এবং ২০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এমন সময় এই বিক্ষোভ শুরু হলো, যখন ইউক্রেন পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রেখে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাশিয়া বলেছে, “জেলেনস্কির সরকার জনগণের ম্যান্ডেট হারিয়েছে।” তবে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিক্ষোভ কেবল ইউক্রেনীয় সরকারের নয়, বরং পশ্চিমা যুদ্ধনীতি ও তথাকথিত গণতন্ত্র রপ্তানীর বিরুদ্ধেও এক প্রতীকী প্রতিবাদ। অনেকেই এটিকে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের সূচনা হিসেবে দেখছেন।








