আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
২২ জুলাই আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্রিকস নিউজ এর প্রাপ্ত তথ্যমতে জানা যায়, ফ্রান্স সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (সাবেক টুইটার)-কে ‘সংগঠিত গ্যাং’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী X-এর কর্মীদের ব্যক্তিগত মোবাইল ও কম্পিউটার ডিভাইসে আইনগতভাবে নজরদারি ও ওয়্যারট্যাপ চালাতে পারে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ইলন মাস্কের মালিকানাধীন X তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়—
“এই তদন্তটি ফরাসি আইনকে বিকৃত করে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমন করা।”
X স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা ফরাসি কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি বা তথ্য হস্তান্তরের দাবি মেনে নেয়নি।
এ বিষয়ে ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রযুক্তি ও মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে বাকস্বাধীনতা, গোপনীয়তা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নীতির ওপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে কন্টেন্ট মডারেশন, গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং সহিংসতা উসকানির অভিযোগে আইনগত চাপ বাড়ছে। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘সংগঠিত অপরাধী চক্র’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি নজরদারির আওতায় আনা নজিরবিহীন।
ঘটনার পরপরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, এটি প্রযুক্তি খাতের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য একটি বিপজ্জনক নজির।
বর্তমানে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে এবং একাধিক সংগঠন ফ্রান্স সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। পরিস্থিতি কী দিকে গড়ায়, সেটি ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।








