Home দেশ সংবাদ ধর্মপুর কলেজে নিয়োগ বাণিজ্য: সভাপতির আত্মীয় উপাধ্যক্ষ, অদৃশ্য শিক্ষক এমপিওভুক্ত

ধর্মপুর কলেজে নিয়োগ বাণিজ্য: সভাপতির আত্মীয় উপাধ্যক্ষ, অদৃশ্য শিক্ষক এমপিওভুক্ত

133
0
blank

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধর্মপুর আব্দুল জব্বার ডিগ্রি কলেজে উপাধ্যক্ষ ও প্রভাষক নিয়োগকে ঘিরে নিয়োগ বাণিজ্য ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। কলেজটি এলাকার দরিদ্র ও খেটে খাওয়া পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার প্রধান ভরসাস্থল হলেও, নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান অনিয়মে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতিকে উপেক্ষা করে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতির জ্যাঠাতো ভাই এহেতেশামুল হক ডাকুয়াকে উপাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, উপাধ্যক্ষ হওয়ার জন্য আবেদনকারীর অন্তত তিন বছরের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি এবং নিয়োগের আগে আগের পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়। কিন্তু এসব শর্ত উপেক্ষা করেই ৪ জুলাই নিয়োগ পরীক্ষার নামে একপ্রকার লোক দেখানো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়, যেটি অনুষ্ঠিত হয় গভর্নিং বডির অজ্ঞাতসারে এবং প্রতিষ্ঠানে।

কলেজের সমাজবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগে নিয়োগ পাওয়া দুই প্রভাষক—রুহুল আজম মামুন ও আব্দুর রহিম—ছাত্র-শিক্ষক এমনকি কলেজকর্মচারীদের কাছে পর্যন্ত অচেনা! অভিযোগ রয়েছে, এই দুই শিক্ষক কখনোই নিয়মিত ক্লাস নেননি এবং কলেজে উপস্থিত থাকারও কোনো প্রমাণ নেই। শিক্ষক হাজিরা খাতায় গত ছয় মাসেও তাদের কোনো স্বাক্ষর দেখা যায়নি, অথচ তারা সরকারি এমপিওভুক্ত হিসেবে নিয়মিত বেতন তুলছেন। এনটিআরসি’র বিধি অনুসরণ না করেই তাদের নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন পেতে গভর্নিং বডির গঠনে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ভোটের মাধ্যমে তিনজন অভিভাবক ও তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। বরং, অনুমোদনের জন্য ভূয়া তথ্য ব্যবহার করে কমিটি অনুমোদন করিয়ে নিয়েছে বর্তমান কর্তৃপক্ষ।

নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সরদার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “আমি সভাপতির নির্দেশ পালন করেছি মাত্র।”

গভর্নিং বডির সভাপতি আসাদু-দৌলা ডাকুয়া বলেন, “আমি এত কিছু বুঝি না, সদস্য সচিব ভালো জানেন, ওনার কাছ থেকে জেনে নেবেন।”

কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম মুকুল বলেন, “আমি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তির দাবি করছি।”

জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতাউর রহমান যমুনা সংবাদের কাছে জানান, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এলাকাবাসী মনে করেন, ধর্মপুর কলেজে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি। তারা এই বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।