Home দেশ সংবাদ সালেহা ইসহাকে কোচিং-প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেট

সালেহা ইসহাকে কোচিং-প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেট

130
0
blank

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :

সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সালেহা ইসহাক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এখন প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রভাবশালী শিক্ষকদের কোচিং সিন্ডিকেটের কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বছরজুড়েই অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ—কিন্তু শিক্ষকেরা বহাল তবিয়তে। বছরের পর বছর একই কর্মস্থলে থেকে প্রভাব খাটিয়ে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেট, যাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে পড়ছে অভিযুক্ত শিক্ষকদের কোচিং-এ। কারণ, কোচিং না করলে নম্বর কমানো হয়—আর কোচিংয়ে পড়লেই পরীক্ষার আগেই পেয়ে যায় প্রশ্নপত্র। এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তি হয়নি। বরং প্রতিবাদ করায় লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজেই।

সম্প্রতি জুন মাসের ষান্মাসিক পরীক্ষার আগে ইসলাম শিক্ষা, গণিত, বাংলা ও বিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। অভিযুক্ত শিক্ষকদের তালিকায় রয়েছেন—ইসলাম ধর্ম বিষয়ের শিক্ষক কামরুজ্জামান, গণিত শিক্ষক সামান আলী শেখ, বাংলা শিক্ষক লিলি খাতুন, ভৌত বিজ্ঞান শিক্ষক তৈমুর হাসান ও ইংরেজি শিক্ষক আবুল কাশেম।

প্রধান শিক্ষক আফসার আলী অভিযোগ করে বলেন, “বিদ্যালয়ের এই সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে প্রশ্নফাঁস ও কোচিং বাণিজ্যে লিপ্ত। আমি বারবার প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু প্রশাসনের নিরবতা ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”

তিনি জানান, এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে বহুবার লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও অধিকাংশ তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। বরং প্রতিবাদ করায় তাকে হুমকি-ধামকির মুখে পড়তে হয়েছে। “এখন আমি নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি,” বলেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি চক্র প্রভাব খাটিয়ে কোচিং করায় এবং তার বিনিময়ে পরীক্ষার প্রশ্ন দেয়। একজন অভিভাবক বলেন, “প্রশ্ন না পেলে নম্বর কম! আমরা কোথায় যাব?”

তারা জানান, বিষয়টি একাধিকবার জেলা প্রশাসকসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে, তবে অভিযুক্ত শিক্ষকরা এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

বিশেষ করে অভিযুক্ত শিক্ষক তৈমুর হাসান ও তার স্ত্রী লিলি খাতুন সম্পর্কে অভিযোগ, তাঁরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ায় দীর্ঘদিন যাবৎ ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে থেকে যাচ্ছেন এবং কোনো ধরনের শাস্তি ছাড়াই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে চলেছেন।

জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে অভিভাবকরা বলছেন, এটি যেন আগের মতো লোক দেখানো তদন্তে সীমাবদ্ধ না থাকে।

তদন্ত কমিটির কাজ শেষ হওয়ার আগেই শিক্ষকরা যাতে প্রভাব না খাটাতে পারেন, তার জন্য তারা অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত এবং বদলির দাবি জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেখানে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়বে, সেখানে বছরের পর বছর ধরে প্রভাবশালী শিক্ষকদের সিন্ডিকেটে বন্দি হয়ে পড়েছে একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যদি এবারও শক্ত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে সালেহা ইসহাক বিদ্যালয় হয়ে উঠবে অনিয়ম ও দুর্নীতির স্থায়ী দুর্গ।