Home বাংলাদেশ উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় ২৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, হাইকোর্টে রিট

উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় ২৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, হাইকোর্টে রিট

146
0
blank

স্টাফ রিপোর্টার, যমুনা সংবাদ:

২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২৫ শিশুসহ অন্তত ২৭ জন নিহত হওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনায় দেশের সর্বত্র, বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আজ হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান রায়হান বিশ্বাস যৌথভাবে এ রিট আবেদনটি দাখিল করেন।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দুপুর ১টায় রিটের শুনানির সময় নির্ধারণ করেছেন।

রিটের শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া এবং অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ।

রিট আবেদনে ত্রুটিপূর্ণ বিমানের সংখ্যা, সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হাইকোর্টের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনার আবেদনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে মাইলস্টোন স্কুল দুর্ঘটনার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে, যাতে ঘটনার পেছনের কারণ ও দায়ীদের যথাযথভাবে চিহ্নিত করা যায়।

এদিকে আজ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানান, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ জনই শিশু। নিহত অন্য দুইজনের মধ্যে একজন যুদ্ধবিমানের পাইলট ও অপরজন কলেজের শিক্ষিকা।

তিনি আরও বলেন, “আহত অবস্থায় ৭৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বার্ন ইউনিটে দুজন ভেন্টিলেশনে আছেন।”

পরিচয় শনাক্তের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ২০ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

উত্তরার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা গোটা জাতিকে শোকাহত করেছে। পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও সামরিক প্রস্তুতির যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এই ঘটনা।

সামরিক বা প্রশিক্ষণ বিমান জনবহুল এলাকায় কেন ওড়ানো হচ্ছে—এ বিষয়ে জবাবদিহিতা দাবি করছেন আইনজীবীরা, শিক্ষাবিদ, নিরাপত্তা বিশ্লেষকসহ সাধারণ মানুষ।