ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলায় জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই আইনের ফাঁদে পড়েছেন এক পক্ষের চারজন। হিন্দু সম্প্রদায়ের দুটি পরিবারের মধ্যে বাঁশ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ এবং পরে মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটনার নাটক তৈরি করে ধর্মীয় উস্কানির মামলা সাজানোর চেষ্টা চালানো হয়। তবে পুলিশের সুষ্ঠু তদন্তে উঠে আসে উল্টো চিত্র—ঘটনার মূল নেপথ্য পরিকল্পনাকারীরা নিজেরাই মূর্তি ভাঙচুরে জড়িত।
স্থানীয় সূত্র ও ডিমলা থানা পুলিশ জানায়, ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের রুপাহারা গ্রামের বিভুতি লাল গং ও কৃষ্ণ কুমার গং-এর মধ্যে জমিজমা ও বাঁশ কাটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ জুলাই (রোববার) দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির পরপরই রিপন কুমারের বাড়িতে থাকা একটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর এবং বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটিকে ধর্মীয় উস্কানি হিসেবে দেখিয়ে প্রতিপক্ষ বিভুতি লাল ও তার বন্ধু আমজাদকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই এমন কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর বিভুতি লাল ডিমলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গভীর তদন্ত শুরু করে এবং প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ডিমলা সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কৃষ্ণ কুমার, স্বপন কুমার, রিপন কুমার, তাদের পিতা পদ্মলোচন এবং অন্তর কুমার (পিতা প্রণক কুমার), সকলেই রুপাহারা গ্রামের বাসিন্দা।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফজলে এলাহী বলেন, “সুষ্ঠু তদন্তে দেখা গেছে, এটি প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর একটি পূর্বপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। আমরা চারজনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
এলাকাবাসী বলছে, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের জেরেই এমন চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক ও পারিবারিক শত্রুতা মেটানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের এ ধরণের প্রবণতা বন্ধে প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্তক অবস্থানে রয়েছে।








