Home দেশ সংবাদ পাবনা সদর হাসপাতালে সেবা সংকট, রোগীদের চরম ভোগান্তি

পাবনা সদর হাসপাতালে সেবা সংকট, রোগীদের চরম ভোগান্তি

156
0
blank

পাবনা জেলা প্রতিনিধি:

প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো পাবনা সদর হাসপাতাল আজ চরম অব্যবস্থাপনা, যন্ত্রপাতি সংকট ও জনবল ঘাটতিতে ধুঁকছে। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতাল প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার রোগীকে সেবা দেয়ার চাপে নুয়ে পড়লেও, কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।

প্যাথলজি বিভাগে সীমিত সংখ্যক পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও উপকরণ সংকটে মাত্র ২০ শতাংশ রোগী সেবা পান। বিনামূল্যের ওষুধ বরাদ্দও দুই মাসেই ফুরিয়ে যায়, ফলে অধিকাংশ রোগীকেই বাইরের ফার্মেসিতে ছুটতে হয়।

২০১৬ সালে উদ্বোধন হওয়া আইসিইউ ইউনিট এখনও চালু হয়নি। হৃদরোগীদের জন্য চালু ২০ শয্যার সিসিইউ ইউনিটেও কার্যকর চিকিৎসা মিলছে মাত্র ৮ জন রোগীর। এছাড়া, জেনারেটর অকেজো থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে অপারেশন থেমে থাকে। পোস্ট অপারেটিভ ইউনিট না থাকায় সার্জারির পর রোগীদের প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করাও সম্ভব হয় না।

হাসপাতালের আরএমও ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে চাই, কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও বরাদ্দ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর রোগীকেও রেফার করতে হচ্ছে।”

অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আইসিইউ চালাতে প্রশিক্ষিত জনবল ও টেকনিক্যাল টিম প্রয়োজন, যা কখনো বরাদ্দই দেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ চলে গেলে আমরা অপারেশন বন্ধ করে বসে থাকি— এমন বাস্তবতা খুবই দুঃখজনক।”

সদর উপজেলার ভাঁড়ারা থেকে আসা রোগী আবুল কালাম বলেন, “একটা টেস্ট ছাড়া আর কিছু হয়নি। ওষুধও পাইনি। বাইরে সব কিনে আনতে হলে সরকারি হাসপাতালে আসার মানে কী?”

আটঘরিয়া থেকে আসা রোগীর স্বজন খয়ের খান বলেন, “জরুরি রোগী রাজশাহী বা ঢাকায় পাঠায়, এতেই সব শেষ। ভোগান্তি চরমে পৌঁছে যায়।”

সব অভিযোগ স্বীকার করে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান বলেন, “পরীক্ষা ও ওষুধ বরাদ্দ দুই মাসেই শেষ হয়ে যায়। আমাদের সামর্থ্য সীমিত হলেও চেষ্টা করে যাচ্ছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।”

প্রায় দুইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি হাসপাতালের এমন করুণ চিত্র স্বাস্থ্যখাতের সামগ্রিক বাস্তবতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়। জরুরি যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবল, ওষুধ ও টেকনিক্যাল সাপোর্টের অভাবে প্রতিদিন হাজারো রোগী জীবন-মৃত্যুর দোলাচলে পড়ছেন। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই হাসপাতাল শুধু নামেই থাকবে ‘জেনারেল’, কার্যত হয়ে উঠবে একটি মৃত্যুকূপ।