আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির জোট ব্রিকসকে ঘিরে প্রযুক্তি ও পরিবহন খাতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। চীন ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা ২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) উড়ন্ত ট্যাক্সি রপ্তানি করবে। (১৯ জুলাই রাতে) এ খবর নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্রিকস নিউজ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার আরও দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করবে। চীনের তৈরি এই ই-ভিটল (eVTOL) বা বৈদ্যুতিক উল্লম্ব উড্ডয়ন ও অবতরণক্ষম যানগুলো শহরভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যেই সফলভাবে এই ধরনের উড়ন্ত যান তৈরি ও পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক এই যানগুলো পরিবেশবান্ধব এবং ট্রাফিক জ্যাম এড়িয়ে দ্রুত চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি করবে। প্রতিটি ট্যাক্সি ২-৪ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম এবং স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন প্রযুক্তি যুক্ত থাকবে।
এই চুক্তি শুধু প্রযুক্তির রপ্তানিই নয়, বরং ব্রিকস জোটের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার প্রতিফলন। রাশিয়া ও আমিরাতের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো চীনের এই উদ্ভাবনকে গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে পশ্চিমা প্রযুক্তিনির্ভরতা হ্রাস পাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাশিয়ায় মূলত মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং অন্যান্য প্রধান শহরে এই উড়ন্ত ট্যাক্সি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অপরদিকে, আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবির মতো আধুনিক শহরগুলোতে এ ধরনের যান খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্রিকস জোটের ভবিষ্যত সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন এবং অন্য সদস্য দেশগুলোকেও এ প্রযুক্তির আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
চীনের এই পদক্ষেপ ব্রিকস জোটের মধ্যে প্রযুক্তি ভাগাভাগির এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। এই উন্নয়ন শুধু আকাশপথে চলাচলের নতুন যুগের সূচনা নয়, বরং ব্রিকস জোটের কৌশলগত শক্তিমত্তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ।








