দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় সরকারি মাতৃত্বকালীন ভাতার তালিকায় এক অবিবাহিত তরুণীর নাম অন্তর্ভুক্ত করে ভাতা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে আছেন আংগারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্যা মোছা. নুরনাহার বেগম।
ভুক্তভোগী তরুণী আক্তারিনা আক্তার নিজেই জানান, তিনি অবিবাহিত এবং মাতৃত্বকালীন ভাতা বিষয়ক কিছুই জানেন না। অথচ, সরকারি নথিতে তিনি একজন গর্ভবতী নারী হিসেবে তালিকাভুক্ত এবং তাঁর নামে ভাতা চালু রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইউপি সদস্যার সুপারিশে ভুয়া তথ্য দিয়ে তাঁর নামে আবেদন করে নিয়মিতভাবে ভাতার টাকা উত্তোলন করা হচ্ছিল।
তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে আক্তারিনার নামে আবেদন জমা পড়ে, যেখানে স্বামীর নাম দেওয়া হয় ‘পায়েল’ এবং গর্ভাবস্থার একটি সনদপত্র সংযুক্ত করা হয়। এরপর থেকে প্রতি মাসে ৮০৫ টাকা করে ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছিল। অথচ বাস্তবে আক্তারিনার কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক বা গর্ভধারণের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
আরও তদন্তে জানা যায়, ভাতার টাকা উত্তোলনে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি আক্তারিনার নয়, বরং সেটি ইউপি সদস্যা নুরনাহার বেগমের জামাতার। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ভাতাভোগী তাঁর স্ত্রী। কিন্তু যাচাইয়ে দেখা গেছে, তাঁর স্ত্রীর প্রকৃত নাম সুরাইয়া আক্তার—not আক্তারিনা।
প্রতারণার বিষয়টি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের সাম্প্রতিক যাচাই-বাছাইয়ে ধরা পড়ে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আক্তারিনা বলেন, ‘আমি অবিবাহিত। এই ভাতার বিষয়ে কিছুই জানি না। যারা এই অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্যা মোছা. নুরনাহার বেগম স্বীকার করেন, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। আমার মেয়ে অসহায়, বয়স কম হওয়ায় অন্য জনের এনআইডি ব্যবহার করে কার্ড করেছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফসানা মোস্তারি বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট ভাতাটি বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন কাজ অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’








